দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ (Delhi Car Blast) কাণ্ডে তোলপাড় পড়েছিল গোটা দেশে। চিকিৎসকরা কী ভাবে জঙ্গি হতে পারেন? এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল গোটা সমাজ। ঘটনার চার মাস পরে ডক্টর টেরর মডিউল (Doctor Terror Module) কাণ্ডে চার্জশিট (Chargesheet) পেশ করল জম্মু-কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবী, আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক সাহিন শহিদ-সহ ১০ জনের নাম রয়েছে চার্জশিটে।
লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের পর থেকেই গোটা দেশ জুড়ে তল্লাশি শুরু করে দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং NIA। শুরু হয়ে একের পর এক গ্রেপ্তারি। সেই তদন্তেই ট্রায়াসিটন ট্রাইপেরক্সাইড (টিএটিপি) নামে এক ধরনের বিস্ফোরকের হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লির হামলাতেও এই বিস্ফোরকই ব্যবহার করা হয়েছিল। ট্রায়াসিটন ট্রাইপেরক্সাইডের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
চার্জশিটে আরিফ নিসার দার (ওরফে সাহিল), ইয়াসির-উল-আশরাফ ভাট, মকসুদ আহমদ দার (ওরফে শাহিদ), ইরফান আহমদ ওয়াগে (ওরফে ওয়াইস), জামির আহমদ আহাঙ্গার (ওরফে মুতলাশি), তুফাইল আহমদ ভাট, ডা. মুজাম্মিল শাকিল গনাই, ডা. আদিল আহমদ রাঠার, ডা. শাহিন সাঈদ এবং ডা. উমর উন নবীর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে নবী ছিলেন দিল্লি বিস্ফোরণে আত্মঘাতী জঙ্গি। লালকেল্লার সামনে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনিই।
প্রাথমিক তদন্তে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে চার্জশিটে অভিযোগ করেছে পুলিশ। একটি বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, ‘অভিযুক্তরা অত্যন্ত গোপনে মডিউল তৈরি করে সক্রিয় ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নিত্য নতুন সদস্য নিয়োগ করত। সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’ পুলিশের দাবি, মডিউলের চিকিৎসকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জঙ্গি কাজকর্মের প্রচার চালাতেন। বিস্ফোরক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতেন। আর বাকিরা কাজ করতেন গ্রাউন্ড লেভেলে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দিল্লি। লালকেল্লার কাছে মেট্রোর সামনের সিগন্যালে এসে থেমেছিল একটি সাদা রঙের i20 হুন্ডাই গাড়ি। ঘুণাক্ষরেও কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় ১৪ জনের (সরকারি ভাবে মৃত ৮) মৃত্যু হয়। জখম হন প্রায় ৫০ জন।