মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিটেশন বিলকে ‘নির্বাচনী মানচিত্র’ বদলের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো আক্রমণ শানালেন রাহুল গান্ধী। লোকসভায় বিল নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা এই বিলকে সরাসরি ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল অ্যাক্ট’ বা ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান, পুরো বিরোধী শিবির একজোট হয়ে এর বিরোধিতা করবে।
এখানেই শেষ নয়, রাহুল গান্ধীর দাবি, সরকার যে প্রস্তাব এনেছে তা আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের সংরক্ষণ বিলকে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে সরকার প্রকৃত সংরক্ষণকে বিলম্বিত করতে চাইছে। এ সম্পর্কে লোকসভায় এ দিন রাহুল বলেন, ‘বর্তমান প্রস্তাবটি কোনও মহিলা ক্ষমতায়ন বিল নয় এবং ২০২৩ সালে পাস হওয়া মূল নারী সংরক্ষণ বিলটিই ছিল আসল আইন।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা।’ একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেন যে, এই বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন যুক্ত হওয়ায় তা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত ও প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাহুলের কথায়, ‘আগের আইনটির বাস্তবায়ন বছরের পর বছর ধরে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এখন যা করা হচ্ছে সেটা ইলেকট্রোরাল ম্যাপ অর্থাৎ নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা।’
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস-সহ সমগ্র বিরোধী দল মহিলাদের সংরক্ষণকে সমর্থন করলেও, বর্তমান সংশোধিত রূপে এই বিল গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে এবং এটি ‘মহিলাদের অধিকার নয়, বরং ক্ষমতা দখলের কৌশল।’
এই ইস্যুতে সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদের অভিযোগ, ডিলিমিটেশনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে, আর সেই কারণেই তারা একজোট হয়ে এই বিল আটকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।