আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষার ছ’মাস আগে পাইলোনিডাল সাইনাস অপারেশন। ডাক্তার বললেন, “কম করে ৩ সপ্তাহ বেড রেস্ট”। কিন্তু সামনে সিবিএসসি বোর্ড পরীক্ষা। তার পড়ার ঘর ছিল দোতলায়। অপারেশনের পর সেলাইয়ের জায়গায় টান লাগত বলে সিঁড়ি ভাঙা সম্পূর্ণ বারণ।
কোমরের নিচে অপারেশন হওয়ায় ১০ মিনিটের বেশি একটানা সোজা হয়ে বসাও ছিল অসম্ভব। দিনে তিনবেলা পেইনকিলার আর অ্যান্টিবায়োটিক। ডাক্তার বলেছিলেন ঘাম লাগলে ইনফেকশন হতে পারে। একেকটা সময় মনে হতো, বোধহয় সত্যিই পারবে না এইভাবে। রাতে ঘুম আসত না টেনশনে।
পরীক্ষার হলে একটানা ৩ ঘণ্টা বেঞ্চে বসা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্যারদের অনুরোধ করে মাঝে পাঁচ মিনিটের জন্য দাঁড়ানোর অনুমতি বরাদ্দ হয়েছিল। প্রতিটা পরীক্ষার শেষে বাড়ি ফিরে ক্ষতস্থান ফুলে যেত, ব্যথা বাড়ত। আবার ড্রেসিং, আবার ওষুধ। পরের দিন আবার একই লড়াই।
এইভাবেই ইছাপুরের ইস্ট পয়েন্ট স্কুলের শুভম দাস ৯৯.৪% নম্বর পেয়ে সিবিএসসি-তে সর্বভারতীয় স্তরে শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অটল ছিল ইছাপুরের শুভম দাসের নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং অদম্য পরিশ্রম। তার এই সাফল্য শুধুমাত্র নম্বরের হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একাগ্রতা ও লক্ষ্যের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। পড়াশোনার পাশাপাশি শুভম একজন দক্ষ বেহালাবাদকও। তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইস্ট পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষকদের আন্তরিক অবদান এবং ব্যক্তিগত অঙ্কের শিক্ষক অজয় ভৌমিকের নিরলস উৎসাহ।
বাবা বেসরকারি স্কুলের ড্রইং-এর শিক্ষক। রোজ ভোর ৪টে উঠে বাবা রান্না করেন। টিফিন গুছিয়ে, জলের বোতল ভরে, তারপর স্কুলে দিয়ে আসা, আবার ছুটির পর নিয়ে আসা। সবটা একা হাতে। কোনওদিন বলেননি “ক্লান্ত”। বলতেন, “তুই পড়, বাকিটা আমি দেখছি।”
আর মা? শুভমের স্কুলের ভূগোল টিচার। ম্যাপ, স্কেল, ডায়াগ্রাম মা-ই হাতে ধরে শিখিয়েছেন। রাত জেগে আমার নোট চেক করা, ভুল ধরিয়ে দেওয়া, স্যাম্পল পেপার কারেকশন। সর্বোপরি বাবা মায়ের সহযোগিতা ও গাইডেন্স ছাড়া এই নম্বর অসম্ভব ছিল।
ইছাপুরের ইস্ট পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র শুভম দাসের নেশা তার জুড়ে সার্কিট বানানো, বেহালার ছড় টানা আর গলা ছেড়ে গান। রেজিস্ট্যান্স মিলিয়ে এলইডি জ্বললে যেমন আনন্দ, ভায়োলিনে ঠিক সুর লাগলেও তেমন। পড়ার টেবিল থেকে সোল্ডারিং, সেখান থেকে রেওয়াজ।