ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র দিলে কীভাবে বুঝবেন 'ডিলিটেড' ভোটাররা? যা জানাল কমিশন
আজ তক | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও যদি ট্রাইব্যুনাল 'ডিলিটেড' কোনও ভোটারকে ছাড়পত্র দেয়, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাইব্যুনাল যে ছাড়পত্র দিল, তা ভোটাররা জানবেন কীভাবে? ভোটের ৪৮ ঘণ্টার আগে পর্যন্ত কাদের নামের নিষ্পত্তি হল, কারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তা বুঝবেন কীভাবে ভোটাররা? এই নিয়ে এবার বিস্তারিত জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
কীভাবে অন্তর্ভূক্ত হবে ছাড়পত্র পাওয়া নাম?
প্রথম দফায় যে এলাকাগুলিতে ভোট রয়েছে, সেখানকার বাতিল ভোটাররা যদি ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে যান, তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২৭ এপ্রিল অর্থাৎ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে।
এ প্রসঙ্গে মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'ট্রাইব্যুনালে যেভাবে আবেদন যাবে, ১৯ জন বিচারক আছেন, তারা সেইমতো নিষ্পত্তি করবেন। যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হলে সেই নামগুলি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।'
এখনও পর্যন্ত কত নামের নিষ্পত্তি?
উল্লেখ্য, কমিশন জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা তৈরি রয়েছে ভোটারদের। এরপর ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যত ভোটার ছাড়পত্র পাবেন, তাঁদের নামও লিস্টে তুলে নেওয়া হবে। CEO বলেন, 'এখনও পর্যন্ত ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়নি। তাই এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল কত জনকে ছাড়পত্র দিয়েছে, অর্থাৎ কত জনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে সেই প্রকৃত সংখ্যাটা বলা যাবে না। তবে কাজ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই এই সংক্রান্ত আপডেট জানানো হবে।'
আপেডেটেড ভোটার লিস্ট কি প্রকাশিত হবে?
ভোটের দু'দিন আগে নামের নিষ্পত্তি হলে ভোটার লিস্টে তাদের নাম আপডেট হবে কীকরে? এই প্রশ্নের উত্তরে মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে সেতু বন্ধনের মতো একটা সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে যেখানে নামের নিষ্পত্তি হতেই ভোটারদের নাম তালিকায় যুক্ত হতে থাকবে। ই প্রক্রিয়া মেনে কাজ করা কমিশনের জন্য খুব একটা অসুবিধার হবে না, আমরা আশাবাদী।'
যাঁদের নামের নিষ্পত্তি তাঁরা খবর পাবেন কীভাবে?
মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'BLO-দের এক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে। তাঁরাই ওই সমস্ত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এছাড়া ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাবে। BDO-র কাছেও থাকবে সমস্ত তথ্য।'
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালে। জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরেও নথি জমা দেওয়া যাবে। ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা বর্তমানে ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’-এ নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।