রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের পর ইভিএম সংরক্ষণ ও গণনার জন্য ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে ৮৭টি স্ট্রং রুম ও গণনাকেন্দ্র। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ইভিএম রাখা হবে এই কেন্দ্রগুলিতেই। কমিশন সূত্রে খবর, ৪৪টি জেলাসদর এবং ৪৩টি মহকুমা সদর—এই দুই স্তরে ভাগ করে রাখা হয়েছে কেন্দ্রগুলি।
নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। প্রতিটি স্ট্রং রুমে থাকবে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর কড়া পাহারা। পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ইভিএম সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না।
কলকাতায় উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। উত্তর কলকাতার আসনগুলির গণনা হবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে। দক্ষিণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে বাবাসাহেব আম্বেদকর শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়, বালিগঞ্জ সরকারি হাইস্কুল, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম ও সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল। পাশাপাশি অ্যালিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সেও একাধিক কেন্দ্র রাখা হয়েছে।
বড় জেলাগুলিতে একাধিক ভেন্যু বেছে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রয়েছে সর্বাধিক কেন্দ্র—যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক, ডায়মন্ড হারবার উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয় ও জোকার ব্রতচারী বিদ্যাশ্রম-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হবে। মুর্শিদাবাদে পাঁচটি পৃথক কেন্দ্রে হবে গণনা, যার মধ্যে রয়েছে বহরমপুর গার্লস কলেজ, জঙ্গিপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক ও কান্দি রাজ কলেজ।
উত্তরবঙ্গেও একই ছবি। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং—সব জেলাতেই নির্ধারিত হয়েছে পৃথক গণনাকেন্দ্র। দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হবে ভোটগণনা।
স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে দ্বিস্তরীয় নিয়ন্ত্রণ। একটি চাবি থাকবে জেলাশাসকের কাছে, অন্যটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধির কাছে। গণনা শুরুর আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা স্ট্রং রুমের বাইরে নজরদারি করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইভিএম সুরক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব বিরোধীরা। বিজেপি চায় সম্পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে থাকুক। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, গণনাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাদের প্রতিনিধিরা সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।সব মিলিয়ে, ভোটের পরবর্তী পর্যায় যাতে নির্বিঘ্ন ও বিতর্কমুক্ত থাকে, সে দিকেই এখন নজর নির্বাচন কমিশনের। খুব শিগগিরই গণনাকেন্দ্র সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে সূত্রের খবর।