নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (টিসিএস) যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরণ কাণ্ডে (TCS Conversion Case) দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে কর্পোরেট জেহাদের অভিযোগ পেয়ে বিশেষ দল গঠন করে তদন্ত নেমেছে পুলিশ। এর মধ্যেই শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস জানালেন, টিসিএস কাণ্ডের তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাহায্য চেয়েছেন তিনি। এইসঙ্গে তিনি হুঙ্কার দেন, দোষীদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
এদিন দেবেন্দ্র ফড়ণবিস বলেন, “বিষয়টি গভীর এবং উদ্বেগজনক।” চক্রান্তের শিকড় উপরে ফেলতে গভীরে গিয়ে তদন্ত হবে বলেও জানান তিনি। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ধারণা, “এই ঘটনা বড়সড় ষড়যন্ত্রের অংশ।” তিনি বলেন, “জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। কাউকে আড়াল করা হবে না। আমরা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে বলেছি।”
উল্লেখ্য, যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ আইটি জায়েন্ট সংস্থার নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।”
বৃহস্পতিবার নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (টিসিএস) ধর্মান্তর বিতর্ক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। জনস্বার্থ মামলা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। ওই আবেদনে বলে হয়েছে, বিষয়টি জেনে গোটা দেশ চমকে উঠেছে। এই ধরনের কাজ ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে’র আওতায় পড়ে। ‘অবৈধ ধর্মান্তর’ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি।
এদিকে ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এইচআর কর্মী নিদা খান পলাতক। অজ্ঞাতবাস থেকে গ্রেপ্তারি আটকাতে আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করছেন তিনি। আইনজীবী মারফত ওই আবেদনে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানিয়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।