লোকসভায় পেশ হয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল। মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসের তৎপরতা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনী জনসভা থেকে ফের একবার রাজ্য ভাগের আশঙ্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “টুকরো টুকরো করে দিয়েছে দেশটাকে। একদিন দেখবেন কোচবিহারটাই হারিয়ে গিয়েছে।” কোচবিহারের ঘোকসাডাঙ্গার ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডের সভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দাবি, এই বিলের মাধ্যমেই বিজেপি আসলে উত্তরবঙ্গকে মূল রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে এনআরসি করে ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত করছে। মমতার প্রশ্ন, “৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল তো অনেক দিন ধরে পড়ে রয়েছে। তার সঙ্গে জনবিন্যাস কেন করছো? বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছো?” তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট জানান, “আজকে আমি যখন এখানে সভা করছি, তখন ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছে। তার জন্য আমাকে নির্বাচন ছেড়ে ২১ জন সাংসদকে পাঠাতে হয়েছে লোকসভায়। নিজেরা জানে হারবে, ৫৪১ সিট আছে, তাই ওটা ৮৫০-র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য টুকরো টুকরো করছে দেশটাকে। একদিন দেখবেন কোচবিহারটাই হারিয়ে গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, শিলিগুড়িটাই হারিয়ে গিয়েছে। এদের লজ্জা, ঘৃণা, ভয় নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছিল, নতুন করে জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন দেওয়া হবে। কিন্তু এখন মোদী সরকার চাইছে ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতেই লোকসভার আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করে দিতে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অভিযোগ, জনবিন্যাসের অজুহাতে বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। সেই অভিযোগেই ফের একবার মোদি সরকারকে একহাত নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।