• ‘অধীরই আমার রাজনৈতিক গুরু, আজীবন মনে রাখব’, বিশ্বাসঘাতকতার ‘স্বীকারোক্তি’তে বিস্ফোরক বায়রন
    প্রতিদিন | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • অধীর চৌধুরীই আমার রাজনৈতিক গুরু। আজীবন তাঁকেই গুরু মানব। নিজের কেন্দ্র সাগরদিঘিতে ভোটের পাঁচদিন আগে বোমা ফাটালেন কংগ্রেসত্যাগী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও মানলেন যে, কংগ্রেস ছেড়ে অধীরের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন তিনি।

    বায়রন বিশ্বাস ২০২৩ সালে কংগ্রেসের ‘রুপোলি রেখা’ হিসাবে উঠে এসেছিলেন। সে বছর সুব্রত সাহার অকালপ্রয়াণের জন্য উপনির্বাচন হয় সাগরদিঘিতে। খানিক চমকপ্রদভাবে সেই উপনির্বাচনে শাসকদলের প্রার্থীকে হারিয়ে দেন কংগ্রেসের টিকিটে লড়া বায়রন। রাজ্যজুড়ে শাসকদল যখন দাপটের সর্বোচ্চ ধাপে, তখন বাইরনের সেই জয় শুধু যে ব্যতিক্রম ছিল তাই নয়, দ্বিমেরু রাজনীতিতে হতাশ বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের জন্য বাইরন ছিলেন সোনালি রেখা, এক টুকরো আশার আলো।

    যদিও সেই আলো নিভতে বেশি সময় লাগেনি। বছর ঘোরার আগেই গোটা রাজ্যের বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের হৃদয়ভঙ্গ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাইরন যোগ দিলেন তৃণমূল। তখন থেকেই যেন সাগরদিঘিতে তিনি ‘গণশত্রু।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, বায়রনের সেই দলত্যাগ বাম-কংগ্রেস সমর্থকরা তো বটেই তৃণমূল এমনকী বিজেপির একটা বড় অংশও মানতে পারেননি। বায়রনের বিরুদ্ধে সেই ক্ষোভই এবারের নির্বাচনে হাতিয়ার বিরোধীদের।

    ‘মীরজাফর’ তকমা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে। তাঁর দলবদলের সিদ্ধান্ত সাগরদিঘির মানুষ ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি। একটা সমস্যা যে হয়েছে সেটা মেনেছেন বায়রন নিজেও। শুক্রবার নিজের দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকেই বায়রন বলে দেন, “আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। এটা অস্বীকার করব না। আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে। ওনাকে সারাজীবন মনে রাখব। শ্রদ্ধা করব। উনি আমার গুরুদেব। উনি বড় ভাইয়ের মতো। ছোট ভাইকে নিয়ে কিছু বলতেই পারেন। তাতে আমার দুঃখ নেই। বরং আনন্দ পাই।”

    অধীরকে নিয়ে বাইরনের এই মন্তব্য সাগরদিঘির রাজনীতিতে কি নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত দিল? বস্তুত অধীরের সঙ্গে বায়রনের সুসম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। বায়রন তৃণমূলে যাওয়ার পরও তাঁর প্রশংসা শোনা গিয়েছে অধীরের মুখে। সাগরদিঘির কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের মতে, বায়রনের সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরেই অধীর চৌধুরী সাগরদিঘির মতো সংখ্যালঘু আসনে হিন্দু ব্রাহ্মণ মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন তিনি। তাতে আসলে বায়রনের লড়াইটাই সহজ হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)