নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র! স্টিং ভিডিওর তদন্তের দাবিতে হাই কোর্টে হুমায়ুন
প্রতিদিন | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ভোটের মুখে হুমায়ুন কবীরের ছড়িয়ে পড়া স্টিং ভিডিও নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চাপানউতোর। এবার এই স্টিং ভিডিওর যথাযথ তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর দাবি, তাঁর বদনাম করার জন্য কেউ ষড়যন্ত্র করে ওই ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল করেছে। তার তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত। আগামী ২২ এপ্রিল মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
গত ৯ এপ্রিল, হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) একটি স্টিং ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিওতে কোনও এক বিজেপি নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের কথোপকথন শোনা যায়। হুমায়ুন বলছেন, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। আমার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।” আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান বলতে থাকেন, “প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই আমাকে বলা হয়, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা বলতে। মোহন যাদবজির সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে।” হুমায়ুন ইঙ্গিত দিয়েছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর। ভিডিওতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা গিয়েছে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। শুভেন্দু স্বীকার করে নিয়েছেন কোনওভাবেই বিজেপির পক্ষে ১০০-১২০ আসনের বেশি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মমতার থেকে মুসলিম ভোট সরাতে পারলেই বিজেপি জিতবে। হুমায়ুন বলেন, “যে হিন্দুরা এখনও মমতাকে বিশ্বাস করেন তাঁরা জানেন ৯০-১০০ শতাংশ মুসলিম মমতার পাশে। সেটা যদি সরে যায়, তাহলে হিন্দুরাও বিজেপিকে ভোট দেবে। আমি মুসলিম ভোট টানতে পারলে হিন্দুরা এমনিই বিজেপির দিকে যাবে।”
হুমায়ুনকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমি অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন পাব। মোহন যাদব-শুভেন্দু অধিকারীরা আমাকে বলেছেন, সেটা করতে পারলে আমাকে সোজা উপমুখ্যমন্ত্রী করে দেবে। সেটাই আমি চাই।” কিন্তু তাঁর পক্ষে ৭০-৮০ আসন পাওয়া সম্ভব কি? প্রশ্ন করেন ভিডিও-তে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি। জবাবে হুমায়ুন বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আমি মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা ছেপে ফেলেছি। সেটার জন্য আমার কিছু টাকার দরকার। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা দরকার।” হুমায়ুন বলেন, “বাবরি ইস্যুটা তোলার পর মানুষের আবেগ যেভাবে আমার দিকে ঝুঁকেছে তাতে আমি নিশ্চিত ৮০-৯০ আসন পাবই।” পুরো ভিডিওটি দেখলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, হুমায়ুন এবারের ভোটে যা যা করছেন, সবটাই বিজেপির ইশারায়। এবং বিজেপির সঙ্গে চুক্তি করে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’ যাচাই করেনি। পরে অবশ্য মোদি বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে দাবি করেন, ভিডিও এআই দ্বারা তৈরি হতে পারে। এবার সত্যাসত্য যাচাইয়ের দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হুমায়ুন।