দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত নথি পৌঁছল নবান্নে। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই বিকাশ ভবন থেকে এই নথি পাঠানো হয়েছে। যার আওতায় রয়েছেন অধ্যাপক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। স্কুলশিক্ষা দপ্তর ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে আলাদা আলাদা ভাবে বকেয়া ডিএ-র হিসাব শুরু করা হয়েছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থেকে অধ্যাপক ও অন্যান্য কর্মীদের কার, কত মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সমস্ত তথ্য জড়ো করে চূড়ান্ত হিসাব তৈরির পর তা নবান্নে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
নবান্নের সবুজ সঙ্কেত পেলেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই এই বকেয়া ডিএ মেটানোর পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে অধ্যাপক, আধিকারিক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ পেতে পারেন। বিকাশ ভবনের পাঠানো ফাইল অনুমোদন পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মচারীই নন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার যোগ্য। তবে পরবর্তীকালে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য বকেয়া ডিএ মেটানোর উদ্যোগ শুরু হওয়ায় শিক্ষামহলে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছিল।
সম্প্রতি নবান্নে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে একাধিক সরকারি দপ্তরের বৈঠকের পরই ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দাবি, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ফাইল অর্থ দফতরে পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা প্রাপ্য ডিএ নিয়ে আশার সঙ্কেত দেখছেন। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এবার ডিএ মেটাতে রাজ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে শিক্ষামহল।