• ‘হিন্দুত্বের রক্ষকরা কি মা কালীকে ভুলে গেলেন?’, সংসদে মোদীকে নারীশক্তির পাঠ কানিমোঝির
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • কালো রঙ কি শুধুই অশুভ শক্তির নজর এড়ানোর হাতিয়ার? নাকি তা অপরাজেয় নারীশক্তির প্রতীক? শুক্রবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই নিয়ে কার্যত ধর্ম বনাম দর্শনের লড়াই উস্কে দিলেন DMK সাংসদ কানিমোঝি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘কালা টিকা’ খোঁচার জবাবে এ দিন লোকসভায় মা কালীর রুদ্ররূপ টেনে আনলেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার, মোদী সরকারের ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধিতায় সংসদে কালো পোশাকে সংসদে এসেছিলেন ডিএমকে সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই বিলে দক্ষিণ ভারতকে বঞ্চনা করা হচ্ছে, সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কটাক্ষ করে বলেছিলেন, তাঁরা সরকারের শুভ কাজে ‘কালা টিকা’ পরিয়ে দিয়েছেন, যাতে এই শুভ কাজে কারও অশুভ নজর না লাগে।

    শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর এই খোঁচার জবাব দেন DMK সাংসদ কানিমোঝি। তিনি নিজেও এ দিন কালো শাড়ি পরে এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের কালো পোশাক মা কালীর প্রতীক। কানিমোঝি বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি যারা নিজেদের হিন্দুত্বের রক্ষক বলে দাবি করেন, তারা মা কালীকে ভুলে গেলেন? সেই মহাশক্তি, যিনি কালো পোশাক পরেন এবং যিনি মানুষের অহঙ্কার ও অজ্ঞানতার বিনাশ করেন।’

    কালো রঙের প্রসঙ্গে তিনি শুধু মা কালীর প্রসঙ্গই টানেননি, কানিমোঝি সাফ জানিয়ে দেন কালো রং তাঁদের কাছে দ্রাবিড় আন্দোলনের অগ্রদূত, পেরিয়ারের আদর্শ ও আত্মসম্মানের প্রতীক। তিনি বলেন, ‘এই রঙ আমাদের আত্মসম্মান শেখায়। আমরা মাথা নত করব না এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।’

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে আসন সংখ্যা বাড়ালে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষতিই হবে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন আগেই সতর্ক করেছেন, এর ফলে হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির গুরুত্ব বেড়ে যাবে।

    এ দিন কানিমোঝিও জানিয়েছেন, ডিলিমিটেশন বিলের বর্তমান রূপটি DMK কোনও ভাবেই সমর্থন করবে না। তাঁর মতে, উপযুক্ত আলোচনা ছাড়া এটি পাস করালে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার করা হবে।

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, সব রাজ্যেরই আসন সংখ্যা সমান ভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে সেই আশ্বাসে যে বিরোধীরা সন্তুষ্ট নন, এ দিন কানিমোঝির বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এই ধরনের সাংবিধানিক সংশোধনীর আগে অন্তত তিন মাস সেই বিল জনসমক্ষে রাখা উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ এবং সব রাজ্যের প্রতিনিধিরা এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক সংশোধনী সুনির্দিষ্ট নীতি, ন্যায়বিচার এবং ধৈর্যের সঙ্গে করা উচিত, গায়ের জোরে নয়।

  • Link to this news (এই সময়)