• গুলি, রক্ত পেরিয়ে কেমন আছে শীতলখুচি? বিজেপির গড়ে ধাক্কা দিতে মরিয়া তৃণমূল
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২১-এর বিধানসভা ভোট। প্রথমবার ভোট দিতে কোচবিহারের শীতলখুচির (Sitalkuchi) আমতলির ১২৬ নম্বর বুথে দাঁড়িয়েছিলেন আনন্দ বর্মন (১৯)। আচমকাই দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। পাল্টা গর্জে উঠেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) বন্দুক। ঝরে গিয়েছিল ৪টি তাজা প্রাণ। তার পরে পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। কেমন আছে শীতলখুচি? ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে কী ভাবছে তারা?

    আনন্দ মাধ্যমিক পাশ করার আগেই সংসারের হাল ধরতে চলে গিয়েছিলেন হায়দরাবাদে। শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ভোটের কয়েক মাস আগে গ্রামে ফিরেছিলেন। সাতসকালে চলে গিয়েছিলেন বুথে। দাঁড়িয়ে পরেছিলেন লাইনে। কিন্তু তখনই হামলা। বোমাগুলিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ভোটের লাইন। একটি গুলি গিয়ে লাগে আনন্দের শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    আনন্দর দাদা গোবিন্দ বর্মন এখনও ফুঁসছেন। পাঁচ বছর পরেও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন তিনি। গোবিন্দ বলছেন, ‘ভাইয়ের জন্য এখনও বাবা-মা চোখের জল ফেলেন। তবে ভাইকে তো আর ফিরে পাব না।’ তার পরেই চোয়াল শক্ত করে বললেন, ‘এখনও একজনও ধরা পড়েনি। দোষীদের শাস্তি চাই।’

    সেই ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, বেলা গড়াতেই আমতলির বুথে শুরু হয় তাণ্ডব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ছোড়া গুলিতে চারজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মনিরুজ্জামান মিয়া(২৯), হামিদুল মিয়া  (৩২), সামিউল হক (২৪), ও নুর আলম (১৯)। শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। পরের দিনই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ঘরের ছেলেকে হারিয়ে ভালো নেই শীতলখুচি। ভোট আসতেই এলাকার বাসিন্দাদের মন খারাপ। মনে পড়ছে সেই রক্তাক্ত ছবি। কানে বাজছে গুলির শব্দ। মনিরুজ্জামানের ভাই পিংকু রহমান বলছেন, ‘দাদার মৃত্যুর পরে বৌদি চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান।’ ঘটনার পরেই সিআইএসএফ-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। জামিনও পেয়েছিলেন অভিযুক্ত জওয়ানরা। তবে সেই মামলা এখনও শেষ হয়নি। চলছে।'

    মামলা চালানোর খরচ অনেক। টাকা জোগাবে কে? চরম আর্থিক সঙ্কটে ভুগছেন নিহতদের পরিবার। পিংকুর কথায়, ‘আইনজীবী শুধু টাকা চান। মামলার ওত টাকা কোথায় পাব? তাও চারটি পরিবার মিলে সেই সময়ে দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলাম। এখন আর সেই টাকাও নেই।’

    গত বারে শীতলখুচিতে জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থী বরেন বর্মন। এ বারে আর তাঁকে প্রার্থী করেনি পদ্মশিবির। জেলা সহ-সভানেত্রী সাবিত্রী বর্মন টিকিট পেয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী তিনি। সাবিত্রীর কথায়, ‘এখানে প্রচুর তামাক উৎপন্ন হয়। আমরা জিতলে তামাক গবেষণা কেন্দ্র গড়ব।’ পানীয় জলের সমস্যা মিটবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থী হরিহর দাস অবশ্য রাজ্য সরকারের উন্নয়নে আস্থা রাখছেন। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি এখানে কোনও কাজই করেনি। মানুষ তাই তৃণমূলকে চায়।’ পাল্টা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একযোগে তোপ দেগেছেন সিপিএম প্রার্থী নমোদীপ্তি অধিকারী। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিরক্ত। তাই এ বার সিপিএমই জিতবে।’

    উল্লেখ্য, শীতলকুচি বিধানসভা শীতল কুচি ব্লকের ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের ৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী জয়ী হয়েছিল ১৭ হাজার ৮১৫ ভোটে।

  • Link to this news (এই সময়)