• মমতা কোচবিহারে যেতেই ভোটের প্রচারে ‘অভিমানী’ রবি! নেত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক, চড়লেন গাড়িও
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় যেতেই মন গলে গেল রবীন্দ্রনাথ ঘোষের! ‘অভিমান’ সরিয়ে প্রবীণ তৃণমূল নেতা হাজিরও হলেন দলনেত্রীর মঞ্চে। মমতাও সভামঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আমার পুরনো দিনের সহকর্মী। এখনও দায়িত্বে আছে।’

    এক সময় কোচবিহারের রাজনীতিতে তৃণমূলের শেষ কথা ছিলেন মমতার দীর্ঘদিনের ‘আস্থাভাজন’ রবি। কিন্তু তৃণমূল সূত্রে খবর, এ বার তাঁকে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে দল টিকিট না দেওয়ায় পুরোনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। অভিমান করে রবিও কার্যত দলের প্রচার থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সব হিসাব উল্টে গেল মমতা কোচবিহারে যেতেই। শুক্রবার কোচবিহার রাসমেলার মাঠে জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতার। সেই সভামঞ্চেই দেখা গেল রবিকে। দলনেত্রীর সঙ্গে ভোটের প্রচারে অংশ নিলেন তিনিও।

    তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু মমতার মঞ্চে হাজির থাকাই নয়, সভার আগে দলনেত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন রবি। পরে মমতার গাড়িতে চেপেই তিনি সভামঞ্চে পৌঁছন। কিন্তু মমতার সঙ্গে রবির একান্ত বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে জেলা তৃণমূলের সকলেই একমত, রবির মতো পুরনো দিনের নেতা আবার প্রচারে ফিরলে ভোটে দল উপকৃত হবে।

    শুরুর দিন থেকেই তৃণমূলে রয়েছেন রবি। প্রায় ২২ বছর তিনি জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। দু’বার নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়কও হন। মন্ত্রীও ছিলেন পাঁচ বছর। ২০১৯ সালে কোচবিহার লোকসভা আসনে তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর রবিকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরেও ২০২১ সালে নাটাবাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথকে টিকিট দেয় দল। কিন্তু রবি জিততে পারেননি। পরে দলের টিকিটে পুরসভা নির্বাচনে জিতে পুরপ্রধান হন। মাস কয়েক আগে সেই দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এ বারে রবি টিকিট না পাওয়ায় নির্বাচনের ফলে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। তবে এ বার স্বয়ং দলনেত্রীর হস্তক্ষেপে তা এড়ানো গেল বলেই মনে করছেন জেলা তৃণমূলের নেতারা।

  • Link to this news (এই সময়)