• নারী সংরক্ষণ নিয়ে লোকসভায় দলের জয়গান মোদির! পাঁচ রাজ্যের ভোটে ১১ শতাংশের বেশি মহিলা প্রার্থী নেই বিজেপিরই
    বর্তমান | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় কোনও রাজ্যের সঙ্গে কোনো বঞ্চনা করা হবে না! মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে লোকসভায় দাঁড়িয়ে সগর্বে বলেছেন, ‘অতীতে এই ঐতিহাসিক আইন কেউ আনার সাহস করেনি। আমরাই নারীশক্তিকে এই ক্ষমতায়নের অন্তর্ভুক্ত করলাম। যারা মহিলা সংরক্ষণ আইনের বিরোধিতা করবে, তারা নারীশক্তির বিরোধী!’ এমন এক সময় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে উদ্যোগ নিয়েছেন মোদি, যখন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপি কিন্তু কোনো রাজ্যেই এবারও ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী দেয়নি। অসমে গেরুয়া শিবির লড়াই করেছে ৮৯ আসনে। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থী মাত্র ৬ জন। বাংলায় ২৯৪ আসনে লড়াই করা বিজেপির মহিলা প্রার্থী ৩৩ জন। শতকরা হিসাবে যা ১১ শতাংশ। কেরলে এবার ১৬ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে তাদের ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৭। তাই বিরোধীরা এদিন মোদির ভাষণের পর প্রশ্ন তুলেছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি কোন রাজ্যে ৩৩ শতাংশ আসন দিয়েছে মহিলাদের? কোথাও না! 

    তা সত্ত্বেও মহিলাদের নিয়ে প্রতিশ্রুতি প্রচারে কমতি রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে রাজ্যের কাছে যে হারে লোকসভা আসন সংখ্যা রয়েছে, সেই একই অনুপাত বজায় থাকবে। সামান্য বৈষম্যও কোনো রাজ্যের সঙ্গে করা হবে না। মহিলা সংরক্ষণ আইনের সঙ্গে ডিলিমিটেশনের সংযুক্তি করে দক্ষিণ ভারতের তুলনায় উত্তর মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির লোকসভা আসন বিপুলভাবে বৃদ্ধি করা হবে— এই অভিযোগেরও কোনো সারবত্তা নেই বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। তিনি আরও বলেছেন, ‘২০২৯ সালে যখন মহিলা সংরক্ষণ আইন বলবৎ করা হবে তখন কৃতিত্ব আপনারই নেবেন। আমাকে কৃতিত্ব দিতে হবে না। কিন্তু আজ আপনারা বিরোধিতা করলে আমারই ভোটে লাভ হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)