প্রচারে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ কিমি হাঁটছেন শিলিগুড়ির বামপ্রার্থী শরদিন্দু
বর্তমান | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্নান সেরে স্ত্রী দীপা ছেত্রী চক্রবর্তীর হাতে গোছানো সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে অল্প মুড়ি খেয়ে প্রচারে বের হলেন শিলিগুড়ির সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। সঙ্গে সর্বক্ষণের সঙ্গী প্রসূন মজুমদার। দেশবন্ধুপাড়ার বাড়ি থেকে মোটর বাইকে চেপে পৌঁছলেন সোজা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি নিজেদের দলের এবং জিতলে শহরের জন্য কী কী করবেন তা মুখে প্রচার করেন।
এরপরেই পৌঁছে যান কলেজপাড়ায় মেয়রের ওয়ার্ডে। সবচেয়ে বড় হেভিওয়েট নেতার ওয়ার্ডেও মানুষের কাছে শহরের জন্য তাঁর কী পরিকল্পনা রয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেন। দুপুর গড়ালেও খাওয়া দাওয়ার প্রতি খুব একটা আগ্রহী হতে দেখা যায়নি প্রার্থীকে। জিজ্ঞাসা করতেই সাফ জবাব, এই বিষয়ে অশোক দা থেকে আমার স্ত্রী, এমনকি দলীয় কর্মীদের অনেকেই বলেন আমি খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে খুবই অমনোযোগী। কিছুতেই ঠিক করে খাবার খেতে চাই না। তাই মাঝেমধ্যে আমার স্ত্রী ব্যস্ততার মধ্যেও ভাত মেখে খাইয়ে দেয়। আমার স্ত্রী ছাড়া আমি ঠিক করে কিছুই করতে পারি না।
কী খেতে ভালোবাসেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাত, ডাল ও বিভিন্ন ধরনের সেদ্ধ সবজি খেতে আমি খুবই ভালোবাসি। নেপালিদের পছন্দের খাবার সেল রুটিও খেতে খুব ভালোবাসি।
কথা বলতে বলতেই ফের শিলিগুড়ি কোর্টে পৌঁছে জনে জনে ভোট প্রচার করেন তিনি। সকলের কাছে একবার কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান প্রার্থী। বিকেলের দিকে শিলিগুড়ির বিধায়কের ওয়ার্ড ২৪ নম্বরে গিয়ে হরিজন বস্তির বাসিন্দাদের সুখ দুঃখের কথা শোনেন প্রার্থী। এরপরেই প্রধাননগরের দিকে চলে যান প্রার্থী। সেখানেও লাগাতার প্রচার সারতে থাকেন প্রার্থী। প্রচারের ফাঁকে ফাঁকে লাল চায় চুমুক দিতে থাকেন প্রার্থী। প্রার্থীর দাবি, সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত লাগাতার প্রচার চালাতে কমপক্ষে গড়ে দিনে ১০ কিমি হাঁটতে হচ্ছে। শরীর সতেজ রাখতে জল খাচ্ছেন নিয়মিত। তবে তাঁর দাবি, যেভাবে মানুষ আমাদের সাড়া দিচ্ছেন তা অভাবনীয়। সকলেই বদলের পক্ষে। তবে ভাতার রাজনীতি নয় নিশ্চিত কর্মসংস্থানের দাবিতে করা আমাদের লড়াইয়ের পক্ষে মত পালটানোর লক্ষ্যেই মানুষ এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন বলে দাবি করেন প্রার্থী।