• বিদায়ী বিধায়ককে চোখেই দেখেননি, এবার উন্নয়নের পক্ষে বুল্টি, চুমকিরা
    বর্তমান | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সন্দীপন দত্ত, মালদহ: পাঁচ বছরে বিধায়ককে চোখেই দেখিনি। এলাকার উন্নয়ন তো দূরের কথা। বরং তৃণমূল কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চোখে দেখা উন্নয়নের পক্ষেই এবার ভোট দেব। বাংলা নববর্ষের সকালে স্থানীয় কাউন্সিলারকে প্রচারে দেখে সোজাসাপ্টা জবাব ইংলিশবাজার শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চুমকি সিং, বুল্টি যাদবদের। 

    ইংলিশবাজার বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকে এবার টিকিট দেয়নি বিজেপি। কারণ একটাই, জনগণের সঙ্গে শতযোজন দূরে থাকা। রাজনৈতিক মহল বলছে, পাঁচ বছরে বিধায়ক কোনো কাজ না করার কারণে নিজেদের জেতা আসন ইংলিশবাজারে ব্যাকফুটে বিজেপি। এদিকে, শহরে জোর প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল। দলীয় প্রার্থী ছাড়াই প্রতিদিন সকাল-বিকেল বাড়ি বাড়ি প্রচার করছেন পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুজিত সাহা। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তির সঙ্গে পুরসভার উন্নয়নের ঝুলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। নববর্ষের সকালেও নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটপ্রচারে যাচ্ছেন সুজিত।

    এদিন সুজিতকে দেখামাত্রই হাসিমুখে গেট থেকে এগিয়ে আসেন ওয়ার্ডের বাসিন্দা চুমকি সিং। বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে কোনো পাকা রাস্তা, নিকাশিনালা ছিল না। আপনি আমাদের শুধু পাকা রাস্তাই উপহার দেননি,  দিয়েছেন নিকাশিনালাও। নিজের চোখে এই উন্নয়ন দেখেছি। তাই এবারের ভোটে উন্নয়নের সঙ্গেই থাকব।  একই মত ওই ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা বুল্টি যাদবের। তাঁর কথায়, আমরা শহরে থেকেও শুধুমাত্র বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছিলাম। আজকাল প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। আমাদের ওয়ার্ডে তৃণমূল সরকার দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করেছে। প্রতিদিন সেখানে ডাক্তার বসেন। বিনামূল্যে  ওষুধ মেলে। আমরা উন্নয়নের সঙ্গে আছি। 

    রাজ্য সরকারের প্রশংসা করার পাশাপাশি বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে আক্ষেপও রয়েছে তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, এখানে পাঁচবছর বিজেপির বিধায়ক ছিলেন। তাঁকে আমরা কোনোদিন দেখিনি।

    ইংলিশবাজার শহরের এই ওয়ার্ডে বুথের সংখ্যা সাত। এসআইআরের পর এখানে ভোটার প্রায় ছয় হাজার। রেললাইনের একদিকে দু’টি বুথ। অন্যদিকে পাঁচটি। দু’টি বুথ রেললাইনের এপারে শহরের মধ্যে থাকায় সেখানে উন্নয়ন ভালোই হয়েছে। কিন্তু রেললাইনের ওপারের অংশটি মূল শহর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। শহরের একমাত্র উড়ালপুল পেরিয়ে ওপারে যেতে হয়। যার ফলে রেললাইনের ওপার তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি বলে অভিযোগ।

    স্থানীয় কাউন্সিলার সুজিত বলেন,  এখানে ২৫ বছর সিপিএম এবং ৫ বছর বিজেপির কাউন্সিলার ছিলেন। যাঁরা রেললাইনের ওপারের অংশে কোনো কাজ করেননি। 

    গত চার বছরে বহু কাঁচা রাস্তা পাকা করার সঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রমাণ করছে এবার ইংলিশবাজারে জোড়াফুল ফুটবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)