রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: আমরা চা সুন্দরী আবাস করে দিয়েছি। আরও চা সুন্দরী হবে। আমরা হোমস্টে করে দিয়েছি। আরও হবে। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণের শুরুতে এটুকু বলতেই করতালির শব্দব্রহ্ম। মাদারিহাট ও কালচিনি ব্লকের কয়েকটি চা বাগানের শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই চা সুন্দরী প্রকল্পের ঘরের চাবি হাতে পেয়েছেন। এবার আরও চা সুন্দরী হবে, মুখ্যমন্ত্রী এটুকু বলতেই সভায় আসা চা শ্রমিকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
মুখ্যমন্ত্রী যতবার চা বাগানের মানুষের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে বলেছেন ততবারই সভায় আসা মানুষ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা শুনুন মোদিজি এখানে এসে বলেছিলেন পাঁচটি বাগান খুলে দেওয়া হবে। একটা বাগানও খুলতে পারেননি। আমরাই বন্ধ বাগান খুলে দিয়েছি। প্রসঙ্গত, বুধবার ফালাকাটার জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, জলদাপাড়ায় হাতি, চিতাবাঘের আক্রমণ বেড়ে গিয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। মমতা দিদির সরকার তা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সেই প্রসঙ্গে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কখনও কখনও জঙ্গলে আপনাদের হাতির সামনে পড়তে হয়। এটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু অন্য জায়গায় কী হয় আমি সেটা জানি। আমি সেটা বলতে চাই না। মুখ্যমন্ত্রী এভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার জবাব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, আলিপুরদুয়ার, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটা, ধূপগুড়িতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা কোথায় ছিলেন? ঝড়ে দেখা নেই, জলে দেখা নেই, ভাঙনে দেখা নেই, সাইক্লোনে দেখা নেই, বাড়ি ভেঙে গেলে দেখা নেই, উন্নয়নে দেখা নেই। আগামী পাঁচ বছর তোমার দেখা নাই রে তোমার দেখা নাই। বিজেপির প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই ঠেস জনসভায় আসা জেলার বাসিন্দারা সমস্বরে চিৎকার করে সায় দিয়েছেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জেলাবাসীকে স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আলিপুরদুয়ার জেলা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যা করে দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের উদ্বাস্তু মানুষের জমির সমস্যা আমরা করে দিয়েছি। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী ব্যথিত গলায় বলেন, এখনও মানুষের কাছে বলতে হবে যে আমি কেন ভোট চাই। আমি বারবার আলিপুরদুয়ারে আসি। এদিন মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ করকে (বাবলু) বলেন, বাবলুকে বলছি ভালো করে কাজ করতে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচ প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেন।