নাম না করে বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ মমতার, ঘরের ছেলে সাবলুকে জেতানোর আবেদন
বর্তমান | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, মাথাভাঙা: একজন গুন্ডাকে জেতাবেন, না ডক্টরেটকে? যে গুলি চালিয়ে দেয়, ২০টা গাড়ি নিয়ে ঘোরে, লোককে চমকায়, ধমকায় তাদের ভোট দেবেন? একজন অধ্যাপককে মাথাভাঙায় জেতান। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক সাবলু বর্মনের সমর্থনে জনসভা করতে এসে নাম না করে এভাবেই মাথাভাঙা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন দুপুর ১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছতেই কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস শুরু হয়। মাথাভাঙার তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মন, কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক, শীতলকুচির প্রার্থী হরিহর দাসের হাত তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এক-দুই-তিন-চার। বিজেপির হবে হার। আমরা ভাই-বোন। এখানকার প্রার্থী আমাদের ঘরের ছেলে। আর বিজেপির প্রার্থী ২০টা পুলিশের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। এদের দুধ-কলা দিয়ে পুষতে হবে। দুধ-ভাত খান। কিন্তু বাড়িতে থাকুন।
এরপরেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোচবিহারে রাজনৈতিক হিংসা কেন হচ্ছে? আমি এখানকার প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করুন। আমাদের সময় তো হয়নি। গত নির্বাচনে সেন্ট্রাল ফোর্স গুলি চালিয়ে চারজনকে মেরে ফেলেছিল। আমি এসেছিলাম। যাঁরা কেন্দ্রের মন্ত্রী থেকে আজ পর্যন্ত কোচবিহারের মানুষের জন্য একটাও কাজ করতে পারেনি, তারা আজ বড় বড় কথা বলছেন।
কোচবিহারের উন্নয়ন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিটমহল অধিগ্রহণ, কোচবিহার বিমানবন্দরের জন্য ৩০০ কোটি টাকা খরচ, ময়নাগুড়ি-যোগীঘোপা রেলপথ, রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি, নস্য শেখ উন্নয়ন বোর্ড, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ইত্যাদি উদাহরণ তুলে ধরেন। সরব হন এসআইআর প্রসঙ্গ নিয়ে।
মমতার প্রশ্ন গুন্ডাকে জেতাবেন, না ডক্টরেটকে জেতাবেন? ৪ তারিখের পর তোমাদের মুখোশ টেনে খুলে দেব। অসম থেকে এনআরসি নোটিস পাঠাচ্ছ? অসম বর্ডার সাবধান। রেলে কারা আসছে লক্ষ্য রাখবেন। বিজেপির বুথে বসার লোক নেই। টাকা দিয়ে এজেন্সির লোক বসাবে। টাকার থলি নিয়ে এসেছে। বিজেপিকে কোচবিহার থেকে একটি খাতাও খুলতে দেবেন না। সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপিকে আক্রমণের একেবারে শেষ দফায় বলেন, ওঁদের শূন্য থেকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দিন। • নিজস্ব চিত্র।