• পরণে নীল পাঞ্জাবি, আশীর্বাদ চেয়ে গ্রাম চষছেন তরুণকুমার
    বর্তমান | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌমিত্র দাস, কাঁথি: বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক ১০টা। এগরা বিধানসভা কেন্দ্রের  বরিদা পঞ্চায়েতের কৌড়দা গ্রাম। প্রার্থী আসবেন। গ্রামের রাস্তার দু’দিকে দাঁড়িয়ে প্রচুর মহিলা, দলীয় নেতা-কর্মীরা। প্রার্থী আসতেই পুষ্পবৃষ্টি। সবাই উচ্ছ্বসিত। প্রার্থীর মুখে চওড়া হাসি। পরণে নীল পাঞ্জাবি। হাতজোড় করে গ্রামে ঢুকলেন তিনি। সময় নষ্ট না করেই চলল টানা জনসংযোগ। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গেলেন। রাস্তায় মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা সারলেন। বড়রা আশীর্বাদ করলেন। বয়সে ছোটরা নমস্কার। আর খুদেদের কাছে ভালোবাসা পেয়ে মুগ্ধ বিদায়ী বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি। বললেন, ‘আপনারা গতবারের মতো এবারও আমাকে আশীর্বাদ করুন। এগরার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখব।’ 

    শহর-গ্রামের মেলবেন্ধনে গড়ে ওঠা এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার তৃণমূলের বাজি তরুণবাবু। আসনটি ধরে রাখতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না তিনি। এদিন প্রচারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন বরিদা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে। কোথাও বাড়ি বাড়ি প্রচার। কোথাও আবার কর্মিসভা করে জনতা জনার্দ্দনের মন ছোঁয়ার চেষ্টা করলেন। প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন কৌড়দায় বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিয়ে। কৌড়দার পর বয়েসপুর বুথে কর্মিসভা। এই বয়েসপুর গ্রামের মধ্য দিয়েই এগরা শহর থেকে দাঁতন বিধানসভার হরিপুর পর্যন্ত তিন কোটিও বেশি টাকায় পাকা রাস্তার কাজ চলছে। গৌতম মহাপাত্র, অশোক দাস, প্রীতি পাহাড়ী প্রমুখ বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের আমলে আমরা সকলেই জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছি। এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজকর্ম চলছে। আমরা তরুণবাবুকে আবার বিধানসভায় দেখতে চাই।’ প্রীতিতে কথায় আশ্বস্ত বিধায়ক বললেন, ‘এই বরিদা পঞ্চায়েত থেকে গত নির্বাচনে আমাকে লিড দিয়েছিল। এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ। বয়েসপুর ও বাতাসপুর বুথে কালভার্টের  দাবি রয়েছে এলাকাবাসী। সেটা আমি করে দেব।’ পার্শ্ববর্তী মাধবপুর এলাকায় খালের উপর সাংসদ জুন মালিয়ার কোটায় দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকায় ব্রিজ হবে বলেও জানান তরুণবাবু। সেখান থেকে গন্তব্য ছিল ষড়রং। ষড়রংয়ের পর বরিদা, বর্তনা সহ কয়েকটি গ্রামে জনসংযোগের মাধ্যমে এদিনের প্রচার শেষ হয়। একুশের নির্বাচনে পানিপারুল মুক্তেশ্বর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণবাবুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। সেবার বিজেপি প্রার্থী অরূপ দাসকে ১৮ হাজার ৪৯১ ভোটের ব্যবধানে জিতে প্রথমবারেই বাজিমাত করেন তিনি। এবার ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রচারে কোনো খামতিই রাখছেন না।  এদিন তাঁর সঙ্গী ছিলেন বরিদা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সিদ্ধেশ্বর বেরা সহ অন্যান্য নেতা। সিদ্ধেশ্বরবাবু বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে বিধানসভা এলাকাজুড়ে অনেক রাস্তাঘাট, সেতু তৈরি হয়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প বসেছে। নিকাশি ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তরুণবাবু আবার নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’ এগরার বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পাঁচ বছরে উন্নয়নের কাজ সেভাবে হয়নি। আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। জয়ী হলে সবগুলি বাস্তবায়িত করব।’ তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। প্রতিটি জায়গায় ভালো সাড়া পাচ্ছি। জয় নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই।’ -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)