নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিধানসভা ভোট তৃণমূলের হয়ে প্রচারে ঝড় তুললেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। শিল্পাঞ্চলে রোড শো করার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাঁজালো বক্তব্যও রাখেন লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার। বাংলার সিনেমার একদা জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ের জনপ্রিয়তা আজও অটুট রয়েছে গ্রাম বাংলার মেয়েদের কাছে বৃহস্পতিবার তাঁর প্রমাণ মিলল। এদিন তিনি বারাবনি বিধানসভা এলাকায় রোড শো করেন। রোড শো শেষে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ভোট আসলেই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বাংলায় যাতায়াত শুরু করেন। ভোট মিটলে এদের আর দেখতে পাওয়া যায় না। পাঁচ বছর ধরে মানুষকে পরিষেবা দেয় ও পাশে থাকে তৃণমূলের কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। এর আগেও ভোটগুলিতেও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেছেন। তাতে কোনো লাভ হয়নি। এবারও এই ডেলি প্যাসেঞ্জারি বৃথা যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।
বারাবনিতে রোড শো পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় জনসভা করেন। সেখানেই তিনি বলেন, বিজেপি ধর্মের নামে ভোট চায় আমরা উন্নয়নের নামে ভোট চাই। জামুড়িয়ার চুরুলিয়ার জনসভা থেকে বলেন, ধর্মের নামে ভোট দেবেন না, ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। যে রাস্তা পেরিয়ে ভোট দিতে যাবেন খেয়াল করবেন সেই রাস্তা কে বানিয়েছেন।
এরপর তিনি বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলেন, বিহারের মহিলাদের ভোটের আগে অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। ভোট পার হতেই সেই টাকা ফেরত চাইছে বিজেপি সরকার। ওরা প্রকল্পের সুবিধা দেব বলে ভোট চাইছে আর আমরা প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার পর ভোট চাইছি। পার্থক্য এটাই। ওরা দেব বলে এতদিন কিছু দেয়নি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনার ছেলেমেয়ের সাইকেল থেকে মাসের প্রথমেই আপনার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিচ্ছেন। এদিন তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, জামুড়িয়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হরেরাম সিং ও তৃণমূল ব্লক সুব্রত অধিকারি।
জনসভার আগে বারাবনি বিধানসভা এলাকায় বর্ণাঢ্য রোড শোয়ে অংশ নেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ। এদিন গোরাণ্ডি থেকে পাঁচগাছিয়া পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি করেন। হুড খোলা জিপে ছিলেন শতাব্দী। পিছনে ছিল তৃণমূলের বিশাল বাইক মিছিল। রাস্তার দু’পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। মানুষের উৎসাহ দেখে তিনি বলেন, তৃণমূল প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এখানে বিধানবাবু তিন বার বিধায়ক হয়েছে আবারও উনিই বিধায়ক হবেন। এদিন হুড খোলা জিপে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বারাবনির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় ও ব্লক সভাপতি অসিত সিং।
এবিষয়ে বিজেপি জেলা সহ সভাপতি তাপস রায় বলেন, মানুষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তৃণমূলের অপশাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করবে। কারো কথায় কাজ হবে না। বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন বিজেপি করবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে তৃণমূল আতঙ্কিত। জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরে রাম সিং এর সমর্থনে জনসভায় সাংসদ শতাব্দী রায়।