• ভগবানপুর, পটাশপুরে জয় চাই কর্মীদের নির্দেশ অভিষেকের
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা,নেকুড়শুনি (পটাশপুর): ভগবানপুর ও পটাশপুরে জেতাতে হবে তৃণমূল প্রার্থীদের। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষায় জবাব দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার পটাশপুরের নেকুড়শুনি নির্বাচনি জনসভা থেকে এভাবে দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে রাখলেন, দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ৪ মে তারস্বরে বাজবে রবীন্দ্র সংগীত। 

    ভগবানপুর ও পটাশপুরের সংযোগস্থল নেকুড়শুনি। ভগবানপুরে এবার তৃণমূলের বাজি মানব পড়ুয়া। অন্যদিকে, পটাশপুরে প্রার্থী করা হয়েছে পীযূষকান্তি পণ্ডাকে। দুই প্রার্থীর সমর্থনে নেকুশুনিতে সভা করেন অভিষেক। বৈশাখের তপ্ত দুপুরেও সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তা দেখে আপ্লুত অভিষেক বলেই ফেলেন—‘এখানকার নির্বাচনি জনসভা দেখে মনে হচ্ছে যেন বিজয় উৎসব। আপনাদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি, উৎসাহ, উদ্দীপনা যেভাবে দেখেছি, তাতে আমার বদ্ধমূল ধারণা, পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি কখনও বেইমানি করে না। গদ্দার, মীরজাফরদের সমর্থন করে না। এই মাটি বশ্যতা-বিরোধী মাটি। কখনও মেরুদণ্ড বিক্রি করে না। ভগবানপুর থেকে মানব পড়ুয়া এবং পটাশপুর থেকে পীযূষকান্তি পণ্ডাকে জিতিয়ে একুশের প্রতিশোধ নিতে হবে।’

    ২০২২ সালে ৩ ডিসেম্বর ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন তিনজন তৃণমূল কর্মী। সেই ঘটনার তদন্তে  ১০ দিন আগে মানবকে নোটিস ধরিয়ে ডেকে পাঠিয়েছে এনআইএ। এদিন তা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আসলে নির্বাচনি লড়াইয়ে মানসিকতা ভেঙে দিতে এই নোটিস। ওরা যত মারবে, লড়াইয়ের ভাষা তত তীব্র হবে। আমাদের জেদ তত বাড়বে। ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশনকে লাগিয়ে কোনও লাভ নেই। নতুন বছরে নতুন সঙ্কল্প ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। যে ভালোবাসা দিয়ে আপনারা আজকে আবদ্ধ করলেন, আগামী দিনে উন্নয়ন করে এর সুদ সমেত ফেরত দেব।’ 

    ভগবানপুরে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ থাকা সত্ত্বেও যে উন্নয়ন হয়নি, তা নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘এখানকার বিধায়ক, সাংসদ  বিজেপির। কিন্তু, দু’জনকেই খুঁজে পাওয়া যায় না। পটাশপুরের বিজেপির প্রার্থীর বাড়ি রামনগরে। আর ভগবানপুরের বিজেপির প্রার্থীর বাড়ি খেজুরিতে। অথচ, তৃণমূলের দুই প্রার্থী এখানকার ভূমিপুত্র। তাঁরা প্রথম দিন থেকেই দলে রয়েছেন। জয়ী হওয়ার পর আপনাদের পরিষেবা দেবেন। রাত বিরেতে অসুবিধা হলে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত ছুটে বেড়াবেন। বেইমানি করবেন না। গদ্দারিও করবেন না।’ 

    বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা’, ‘মাতৃশক্তি’ নিয়ে বাংলায় প্রচার চালাচ্ছে। এমনকী, স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে দিয়ে নিশ্চয়তার কার্ড বিলি করছে। যা নিয়ে বঙ্গের কুরুক্ষেত্র এখন সরগরম। এদিন অভিযেক বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘ওরা বলছে, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেবে। ১৬টি রাজ্যে ওরা ক্ষমতায়। কোনো একটি রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো পরিবারের সকল মহিলাকে পরিষেবা দেওয়ার নজির দেখাতে পারলে রাজনীতি থেকে অবসর নেব।’

    এদিন দুই বিধানসভার উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘গত দু’বছরে পটাশপুরে বাংলা আবাস যোজনায় ২২ হাজার গরিব মানুষকে পাকাবাড়ি দেওয়া হয়েছে। ভগবানপুরে ১০ হাজার গরিব মানুষ বাড়ি পেয়েছেন। পটাশপুরে ৮৭ হাজার মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়। ভগবানপুরে ৮৫ হাজার মহিলা এই সুবিধা পান। পটাশপুরে ২০ হাজার ৭০৭ জন এবং ভগবানপুরে ২৬ হাজার ৮৯৪ জন যুবসাথী স্কিমের সুবিধা পাচ্ছেন। পটাশপুরে গত তিনবছরে ৮০ কোটি টাকা খরচ করে ২১৬টি গ্রামীণ রাস্তার কাজ করেছে রাজ্য। ভগবানপুরে ৮৬ কোটি টাকা খরচে ১১৫টি রাস্তার কাজ হয়েছে। পটাশপুরে একটি গভর্নমেন্ট কলেজ এবং ভগবানপুরে একটি আলাদা মহিলা কলেজের দাবি রয়েছে। আমাদের দুই প্রার্থী জিতলে এই দু’টি কাজ দ্রুত শুরু হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)