মহাকুম্ভে পদপিষ্ট মেলেনি ক্ষতিপূরণ, নীরব যোগী, ক্ষুব্ধ মৃতদের পরিবার
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সালানপুর: সালানপুর ব্লকের আছড়ায় বিজেপি কর্মীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। বারাবনি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে প্রচারে আসছেন বিজেপি হিন্দুদের পোস্টর বয় যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার মঞ্চ থেকে বার বার ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘ হিন্দু হৃদয়ের সম্রাট কিছুক্ষণের মধ্যে আসবেন। আপনারা সভাস্থলে চলে আসুন। কখনও আওয়াজ তোলা হল,‘হিন্দুকা জো কাম করেগা উহি বাংলা মে রাজ করেগা। হিন্দুত্বের আবহে রাজনৈতিক সভায় হেলিকপ্টারে চড়ে এলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
সভাস্থলে তিনি হিন্দুত্ব আবেগ ভাষাতে জানালেন, তাঁর রাজ্যের গড়ে উঠেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাম মন্দির, কর সেবকদের কাহিনী বলেও আবেগে সুরসুড়ি দিলেন। হিন্দুদের নিয়ে কী করা হয়েছে তার তালিকা তুলে ধরলেও বাংলায় ভোট প্রচারে এসে একবারের জন্যও তুললেন না প্রয়াগের মহাকুম্ভ আয়োজনের কথা। হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব ২০২৫ সালে যোগী রাজ্যে হলেও কেন বাংলায় ভোট প্রচারে এসে এড়িয়ে যাচ্ছেন বিজেপির ‘হিন্দু সম্রাট’।
উত্তরটা সম্ভবত লুকিয়ে রয়েছে। বারাবনি বিধানসভার আছড়ার সভাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে জামুড়িয়া বিধানসভার নিউ কেন্দায়। ১৫ মাস আগে তখন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগে মহাকুম্ভ চলছে। বিনোদ রুইদাস শ্যালক বিষ্ণু রুইদাসকে নিয়ে ছুটেছিলেন মহাকুম্ভে পূণ্যস্থান করতে। ২৯ জানুয়ারি পদপীষ্ঠে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতদের ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিল যোগী সরকার। রুইদাস পরিবারকে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সেরেছে বিজেপি সরকার। এমনকী মৃত্যুর পর প্রথমে দেয়নি ডেথ সার্টিফিকেটও। যা নিয়ে বাংলার রাজনীতিতেও ঝড় ওঠে। ঘটনার তদন্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী বিষ্ণুকে একাধিকবার তদন্তের জন্য ডেকেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু বকেয়া ক্ষতিপূরণ পায়নি দরিদ্র রুইদাস পরিবার। বিনোদ টোটো চালাতেন। তিন নাবালক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল সংসার। এখন স্বামী হারিয়ে বিপাকে শর্মিলা রুইদাস। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর রেশনের চালের ভরসায় চলছে। স্থানীয় বিজেপি নেতারাও আর খোঁজ রাখেনি। বিষ্ণু রুইদাস বলেন, উনি কোন মুখে মহাকুম্ভের কথা বলবেন। সেখানে যা হয়েছে আমি তো জানি। ক্ষতিপূরণের টাকাটাও দিলনা উত্তরপ্রদেশ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বোন পাচ্ছে কিন্তু তৃণমূলের স্থানীয় নেতারাও পাশে দাঁড়ায়নি। বিজেপি তো খোঁজই নেয়না।
বিনোদের মতো বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল মহাকুম্ভে। মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করতে ডেথ সার্টিফিকেট পর্যন্ত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের সেই ব্যর্থনার জন্যই কী কুম্ভ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন যোগী আদিত্যনাথ। জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলব।
এদিন যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে গোহত্যা হবে না। তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, উত্তরপ্রদেশে গোহত্যা নিষিদ্ধ কেন করা হয়নি। এদিন বাংলার নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন যোগী অথচ নিজের রাজ্যে উন্নাও, হাতরাশ নিয়ে এদিন তিনি নীরব ছিলেন। যোগীকে খুশি করতে সভায় কিছু সমর্থক বুলডোজারের ডালায় চেপে আসেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার মাফিয়াদের ঠাণ্ডা করে দিয়েছে। সব গুণ্ডারা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। যদিও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অপরাধের ছবি ভেসে ওঠা প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করেননি সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। বারাবনির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় বলেন, বিজেপি ধর্মের নামে রাজনীতি করে। হিন্দু, মুসলিম কারও উপকার করেনা। মহাকুম্ভে তো সব হিন্দুরাই পূণ্যস্নান করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের কেন অকাল মৃত্যু হল। ক্ষতিপূরণের টাকা পর্যন্ত দেননি। বারাবনিতে বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে জনসভায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।-নিজস্ব চিত্র