• মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কাই সত্যি! জেলায় মহিলা ভোটার কমল প্রায় আড়াই লক্ষ
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কাই সত্যি হল। নদীয়া জেলায় নাম বাদের তালিকায় পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। এসআইআরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জেলায় নাম বাদ পড়েছে মোট ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জনের। তাঁদের মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭। আর পুরুষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার। মাত্র ছ’মাসের এত সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়ার পিছনে কমিশনের রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের ব্যাখ্যা, মহিলাদের স্বনির্ভরতার দিশা দেখাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই মমতার উপর তাঁদের ভরসা অটুট। ভরসার সেই জায়গাটাকে ভাঙতে পুরোপুরি অঙ্ক কষে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি নাম বাতিল হওয়ায় জেলার ভোটচিত্র ফিরে গিয়েছে ২০১৬ সালে। তখন প্রায় ৩৯ লক্ষ ভোটার ছিলেন। একদশক পর ওই সংখ্যক ভোটার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে। যদি না ভোটের প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটার তালিকায় রদবদল না হয়। 

    জানা গিয়েছে, গতবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় জেলার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন। পুরুষ ছিলেন ২২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৮০ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৬৪ জন। এসআইআরের মাধ্যমে ওই তালিকার উপরই ছুরিকাচি চালায় কমিশন। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি প্রকাশিত খসড়া তালিকায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২০ লক্ষ ২৬ হাজার ২২৯ জন। অর্থাৎ, এক ঝটকায় বাদ পড়ে যান ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৫ জন। 

    তৃণমূলের অভিযোগ, এতেও লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে দেখে আনম্যাপড ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি অস্ত্র প্রয়োগ করে কমিশন। এই দু’টি ক্ষেত্রে ভোটারদের নিয়ে শুনানি শুরু হয়। দেখা যায়, বহু মহিলা ভোটাররা নিজের বাপের বাড়ির পরিবারের লিঙ্ক দেখাতে পারছেন না। আবার অনেক মহিলা বিয়ে করে শ্বাশুড়বাড়ি চলে আসার কারণে পদবি পরিবর্তন হয়ে যায়। নথি নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রকাশের পর নথিগত সমস্যায় থাকা ভোটাররা বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় চলে যান। তারপর একে একে জেলায় ১৫টি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। তাতে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। শুরু হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ। তাতে দেখা যায়, জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৮২ জন। যার মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ১৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন। রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় ২১ হাজার, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভাতে ১২ হাজার, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় ১৯ হাজার, নাকাশিপাড়া বিধানসভাতে প্রায় ২০ হাজার মহিলার নাম বাদ পড়ে যায়।

    রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার মহিলা সভানেত্রী তথা রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালি দে বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই আশঙ্কাই করে আসছিলেন। মহিলাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প চলছে রাজ্যে। মহিলারা তৃণমূলের হাত শক্ত করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই বিজেপি বাংলার মহিলাদের নাম ভোটার তালিকাতে বাদ দিয়েছে। তাতেও লাভ কিছু হবে না। মহিলারা এর জবাব দিতে প্রস্তুত।’ 

    রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ার অংশ। তারপরও যে সকল বৈধ ভোটারের নাম ওঠেনি, তাঁদের পরবর্তী তালিকায় নাম তুলতে বিজেপি চেষ্টা করবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)