উন্নত পরিষেবা আর জনসংযোগে ভর করে মার্জিন বাড়ানোই লক্ষ্য রথীনের
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় জাতীয় সড়কের নীচে আন্ডারপাসে দাঁড়ালেই ভোটের মেজাজটা ধরা যায়। উপরে গাড়ির স্রোত। আর নীচে নিশ্চিন্তে হেঁটে পার হচ্ছেন মানুষ। কেউ থামছেন না, কেউ দৌড়াচ্ছেন না। এই স্বাভাবিক হাঁটাচলাই মধ্যমগ্রামে পরিবর্তনের বড়ো চিহ্ন। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে জুড়ে আছে আরেকটি শব্দ, যা প্রায় সর্বত্র শোনা যাচ্ছে, ‘ঘরের ছেলে’। এবার মধ্যমগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। প্রতিপক্ষে রয়েছেন বিজেপির অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও আইএসএফ ও ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দিয়েছে এখানে।
শ্রীনগর, পশ্চিম খিলকাপুর, রোহন্ডা-চণ্ডীগড়, বাদু রোড, গঙ্গানগর, দোলতলা ঘুরে বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, এখানে উন্নয়ন আর জনসংযোগের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে সমীকরণ। মধ্যমগ্রাম চৌমাথার আন্ডারপাসে ঢুকতেই দেখা গেল, মানুষজন হেঁটে চলেছেন নিশ্চিন্তে। বেরনোর মুখে দাঁড়িয়ে কথা হল সঞ্জয় দে’র সঙ্গে। কথার ছলে তিনি বললেন, আগে এই রাস্তা পারাপার করতে হলে সিগন্যাল লাল না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হত, কিংবা দুই গাড়ির মধ্যে একটু ফাঁক পেলেই দৌড়। এখন নীচে দিয়ে চলে যাই, ঝামেলা নেই, ভয় নেই। দোকান সামলাতে সামলাতে বিকাশ সাহা বললেন, সবচেয়ে বড়ো কথা, এর ফলে সময় বাঁচছে। আগে এই মোড় পেরতে গেলে হাতে সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরতে হত। এখন সেসব ভ্যানিশ। সাবওয়ের নীচে হেঁটে যেতে দেখা গেল এক বৃদ্ধাকে। সঞ্জয় আঙুল দিয়ে দেখালেন, ওনারা আগে একা রাস্তা পার হতে ভয় পেতেন। এই বুঝি গাড়ি এসে গেল! এখন নিরাপদে পারাপার। এটাই আসল পরিবর্তন। এই আন্ডারপাসকে আধুনিক করতে এসকালেটর বসানোর পরিকল্পনার কথাও স্থানীয়দের আলোচনায় ঘুরছে। তবে মধ্যমগ্রামের সমীকরণে শুধু এই প্রকল্পই নয়, বড়ো জায়গা নিয়েছে জনসংযোগও। দমকল কেন্দ্রের সামনে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়াতেই কথার মোড় ঘুরল ভোটের দিকে। মাঝবয়সি বিকাশ বললেন, কাজ তো হয়েছে। কিন্তু দরকারে ডাকলে কাকে পাওয়া যায়, সেটাই বড়ো কথা। পাশে দাঁড়ানো তাঁর এক বন্ধু হেসে বললেন, এই জন্যই তো সবাই বলে, ঘরের ছেলে রথীন ঘোষ। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় তাঁকে। এই ঘরের ছেলে ইমেজটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বাম আমলেই মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন রথীন ঘোষ। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা আজও আলোচনায়। সেই অভিজ্ঞতার উপর ভর করেই তৈরি হয়েছে সহজলভ্যতার ইমেজ, এমনটাই মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পশ্চিম খিলকাপুরে তখন ভোটের প্রচার করছেন তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। উঠছে স্লোগান। মিছিলের শেষে থাকা মহিলা তৃণমূল কর্মী সুন্দরী খাতুন বললেন, ইনি মন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কোনো কাজ নিয়ে গেলে খালি হাতে ফিরতে হয়নি। পাশ থেকে আরেক কর্মী বললেন, মধ্যমগ্রাম পুরসভায় গেলে রোজই কোনো না কোনো সময়ে বিধায়কের দেখা মেলে। দোলতলায় চোখে পড়ল একটি ক্লাবের উদ্বোধনের পোস্টার। উদ্বোধক হিসাবে বড়ো করে লেখা মন্ত্রী রথীন ঘোষের নাম। ফল ব্যবসায়ী সমরেশ দাঁ বললেন, ডাকলেই তাঁকে পাওয়া যায়। শুধু ভোটের সময় না, সারা বছর যোগাযোগ রাখেন তিনি। রক্তদান শিবির, স্থানীয় অনুষ্ঠান, ক্লাবের অনুষ্ঠান— সব জায়গাতেই উপস্থিত বিধায়ক। মধ্যমগ্রামের বাগবান্দা-সাঁইবেড়িয়া হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা উঠতেই আমিনা বিবি বললেন, আগে ছোটো কিছু হলেও বাইরে ডাক্তার দেখাতে হত। এখন সবটাই এখানে হয়ে যায়। রথীন ঘোষের কথায়, এবার আমার লক্ষ্য মার্জিন বাড়ানো।
বিকালে মধ্যমগ্রামের সোদপুর রোডে তখন বিজেপির প্রচারের প্রস্তুতি চলছে। পতাকা টাঙাচ্ছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। আক্ষেপের সুরে তাঁদের বলতে শোনা যায়, একে প্রার্থীর নাম দেরিতে ঘোষণা হয়েছে, তার উপর তিনি এই এলাকার নেতা নন। তৃণমূল এখনেই অ্যাডভান্টেজ-এ চলে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, এলাকার মানুষের কোনো উন্নতি হয়নি। জলাশয় ভরাট থেকে অবৈধ কাজ— সবই হয়েছে এই আমলে। মানুষ এর থেকে মুক্তি চাইছেন।