• গাইঘাটায় কি বিজেপির কাজিয়াকে কাজে লাগাতে পারবে তৃণমূল? চর্চা
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গাইঘাটায় অন্তর্কলহে জেরবার বিজেপি। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই যতটা না, তার চেয়ে বেশি নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন। একের পর এক ঘটনায় স্পষ্ট, সংগঠনের ভিতরের ক্ষত আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কিছুদিন আগেই সেই অস্বস্তির প্রথম ইঙ্গিত মিলেছিল। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন দলের নেত্রী তনিমা সেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সরে দাঁড়ালেও, তাতে পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক হয়নি, তা এখন আরও প্রকট। বরং সেই ঘটনার রেশ ধরেই বিভাজন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে বিজেপির ঘরোয়া কাজিয়াকে কি কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে পারবে তৃণমূল? চায়ের ঠেক থেকে বিভিন্ন আড্ডায় এ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা!

    এবার সংঘাতের কেন্দ্র গোবরডাঙা। বিজেপির পুর মণ্ডলের সভাপতি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও শক্তিকেন্দ্রের নেতা দীপঙ্কর হাওলাদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সেই লড়াই পৌঁছে গিয়েছে রাস্তায়, কর্মীদের মধ্যেও। দীপঙ্করের অভিযোগ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়ে এলাকায় সমাজবিরোধীদের দাপট বেড়েছে। শান্ত গোবরডাঙা অশান্ত হচ্ছে। শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, এর রাজনৈতিক মূল্যও চোকাতে হচ্ছে দলকে। তাঁর কথায়, এর প্রভাব পড়বে ভোটে। কর্মী-সমর্থকদের বড়ো অংশই ক্ষুব্ধ। অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পালটা আশিসবাবু সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সব অভিযোগ আদৌ দলীয় কর্মীদের নয়, বরং বিরোধীদের রোপণ করা। যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত চলছে। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে তিনি সরাসরি বিরোধীদের ষড়যন্ত্র হিসাবে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— যদি সবটাই ‘বাইরের চক্রান্ত’ হয়, তা হলে বারবার কেন দলের অন্দরে এমন বিস্ফোরণ? তনিমা সেনের পর এই নতুন দ্বন্দ্ব কি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বড়ো কোনো অসন্তোষের লক্ষণ? এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সুযোগ নিতে চাইছে তৃণমূল। গাইঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস প্রকাশ্যে কটাক্ষ না করলেও, তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট। বলেছেন, আমরা ব্যক্তি আক্রমণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা ওদের নিয়ে ভাবছি না।
  • Link to this news (বর্তমান)