বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চারদিন ধরে হোটেলে আটকে রেখে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। ছিনতাই করা হয় তাঁর মোবাইল সহ বিভিন্ন সামগ্রী। এরপর নিগৃহীতাকে অন্ধকারে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এক ব্যক্তি সাহায্য করায় তরুণী কোনওরকমে বাড়ি ফেরেন। প্রথমে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তারা জিরো এফআইআর করে পাঠিয়ে দেয় বালিগঞ্জ জিআরপির কাছে। গণধর্ষণ, অপহরণ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই তরুণী বালিগঞ্জে একটি আয়া সেন্টারে কাজ করেন। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখ তিনি ট্রেন তেকে বালিগঞ্জ স্টেশনে নামেন। স্বামীর সঙ্গে অশান্তি হওয়ায় তিনি স্টেশনেই অনেকক্ষণ বসেছিলেন। কান্নাকাটিও করেন। এই সময় এক যুবক এসে তাঁর সঙ্গে ভাব জমায়। আসলে ওই যুবকের যে অন্য মতলব রয়েছে, তা বোঝেননি তিনি। সহানুভূতি জানানোয় উলটে তিনি তাঁকে সমস্ত কিছু খুলে বলেন। কথা প্রসঙ্গে ওই অভিযুক্ত তাঁকে ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেবে বলে স্টেশনের বাইরে নিয়ে আসে। এরপর বাসে করে রাসবিহারীতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাঁকে বিষ্ণুপুরের আমতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তরুণী লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, সেখানে একটি হোটেলে তাঁকে তোলা হয়। ওই হোটেলে কিছুক্ষণ পর তিন-চারজন হাজির হয়। তরুণীর দাবি, তারা সকলে মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে। বাধা দিলে মারধর করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল ফোন। হোটেলের রুমে আটকে রেখে চারদিন ধরে চলে গণধর্ষণ। মোবাইল না থাকায় বাড়িতে খবরও দিতে পারেননি তিনি। শেষমেশ অসুস্থ হয়ে পড়লে হোটেল থেকে নিয়ে গিয়ে এক নির্জন জায়গায় তাঁকে ফেলে দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা। তাঁকে একা এভাবে বসে থাকতে দেখে এক যুবক কী হয়েছে, জানতে চান। তিনিই বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। বাড়ি গিয়ে গোটা ঘটনা জানান তরুণী। বিষ্ণুপুর থানায় অপহরণ, গণধর্ষণ, ছিনতাই সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে মহিলাকে অপহরণ করায় তারা জিরো এফআইআর করে সেটি পাঠিয়ে দেয় বালিগঞ্জ জিআরপিতে।
তদন্তে নেমে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন অফিসাররা। বালিগঞ্জ স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁকে অপহরণ করে যে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেটিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মহিলার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে।