• আন্দুল রোডে যানজটের স্থায়ী সমাধান চাই, প্রার্থীদের কাছে দাবি বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা আন্দুল রোড এখন যানজটের যন্ত্রণার প্রতীক। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে দ্বিতীয় হুগলি সেতুকে যুক্ত করেছে এই রাস্তা। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন সাধারণ মানুষ। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, থানা— সবই এই রাস্তাকে ঘিরে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে এবারের নির্বাচনে আন্দুল রোডের যানজটের স্থায়ী সমাধানই প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে বাসিন্দাদের কাছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, সমস্যার মূল কারণ আন্দুল রোডের দু’পাশে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী ভ্যাট, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, বেআইনি পার্কিং এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল। এর জেরেই রাস্তাটি ক্রমে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। শালিমার থেকে হাঁসখালি পোল— এই অংশে দিনের বেশিরভাগ সময়ই যানজট লেগে থাকে। সন্ধ্যার পর জাতীয় সড়ক থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে যাওয়া ভারী ট্রাক ও ট্রেলারের চাপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। দানেশ শেখ লেনের এক মিষ্টির দোকানের কর্ণধার বলেন, ‘যানজট আর ধুলোর জন্য ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন গ্রাহক কমছে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।’ বকুলতলার বহু বাসিন্দা বলেন, ‘এই যানজটের মধ্যে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া ভীষণ সমস্যার। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হয়। নতুন সরকার যেন এ বিষয়ে অবশ্যই নজর দেয়।’ 

    আন্দুল রোডের হালদারপাড়া থেকে মৌড়িগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে গজিয়ে ওঠা একাধিক অস্থায়ী ভ্যাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাসিন্দাদের দাবি, এই ভ্যাট সরানো, বেআইনি দখল উচ্ছেদ এবং ভারী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া আর কোনোভাবে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এই ইস্যুকে সামনে রেখেই জোরদার প্রচারে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তৃণমূল প্রার্থী নন্দিতা চৌধুরী বলেন, ‘আন্দুল রোডের যানজট অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। এই রাস্তাটি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে। ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।’ রাস্তার পাশে বেআইনি পার্কিং নিয়েও পরিকল্পিত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

     তাঁর এই আশ্বাস কিছুটা হলেও ভরসা জুগিয়েছে বাসিন্দাদের। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী শ্যামল হাতি জানান, ‘ক্ষমতায় এলে আন্দুল রোডকে আরও চওড়া করা হবে। যানজট কমাতে প্রয়োজনে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করা হবে।’  তবে রাজনৈতিক আশ্বাসের মাঝেও বাসিন্দাদের একটাই সুর— প্রতিশ্রুতি নয়, এবার বাস্তবে কাজ দেখতে চান তাঁরা। আন্দুল রোডে যানজটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানই এখন তাঁদের একমাত্র দাবি।
  • Link to this news (বর্তমান)