নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাকপুর: সোনারপুর স্টেশনের পাশেই চায়ের দোকান। সেখানেই চলছিল বিজেপির ‘প্রলোভনের’ প্রচার। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের নামে ৩০০০ টাকা দেবে মোদি সরকার। টাকার টোপ দিয়ে মহিলাদের প্রভাবিত করে ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। তাঁদের থেকে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠল। শুধু সোনারপুর দক্ষিণ নয়, একই অভিযোগ উঠল নৈহাটিতেও। জেলায় জেলায় নির্বাচনি বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
বুধবার রাতে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভায় সোনারপুর স্টেশনের কাছে চেয়ার টেবিল পেতে এই প্রকল্পের ফর্ম বিলি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অনেক মহিলা সেখানে ভিড় করেন। ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে বলে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া হচ্ছিল। জানতে পেরে সেখানে যান তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র। তারপরই বিজেপি কর্মীরা সেখান থেকে চম্পট দেন। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। লাভলি বলেন, ‘ফর্ম ফিলাপের সময় মহিলাদের কাছ থেকে আধার কার্ড চাওয়া হয়। প্রকাশ্যে টাকার প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছিল। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি।’ অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে প্রচার নয়। দলের পক্ষ থেকে সংকল্প পত্র দেওয়া হচ্ছিল।’
অন্যদিকে, মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে নৈহাটির পাওয়ার হাউজ মোড়ে ক্যাম্প করে বিজেপি। যেখানে মহিলাদের দিয়ে ফর্মে সই করানোর অভিযোগ তোলে শাসক দল। বিজেপি নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে ৩ হাজার টাকা করে মহিলাদের দেওয়া হবে। তার জন্য মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড নামে একটি ফর্ম পূরণ করাচ্ছি। ইচ্ছুক মহিলারা সেখানে নাম, মোবাইল নম্বর লিখে সই করছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটির বিজেপির প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনা নির্বাচন বিধিভঙ্গের মধ্যে পড়ে বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে। তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে বলেন, ‘তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকবে। মহিলারা আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। বিজেপির প্রলোভনে তাঁরা পা দেবেন না।’