জল ও জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান ঘাসফুলের লড়াই সহজ করে দিয়েছে
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানীয় জল ও জঞ্জাল এই দুই সমস্যায় কয়েক দশক ধরে চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পানিহাটির মানুষকে। শীত-গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, এই দুই সমস্যা শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ কয়েক দশকের সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকার আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছে। তাই এই ভোটে কয়েক কদম এগিয়েই লড়াই শুরু করতে পারছে ঘাসফুল শিবির। নতুন জল প্রকল্প এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কয়েক মাস ধরে সেই কাজ চলছে জোরকদমে। ভোটের প্রচারে এই ইস্যু তুলে ধরছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
পানিহাটি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১৯ এমজিডি (মিলিয়ন গ্যালন পার ডে) জল প্রয়োজন। পুরসভার নিজস্ব ১৩ এমজিডি জল প্রকল্প রয়েছে। ওই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ৯-১০ এমজিডি জল আসে। আড়িয়াদহের বহু প্রাচীন জল প্রকল্প থেকে বরানগর ও পানিহাটি পুরসভায় জল আসত। পানিহাটিতে দৈনিক ৬ এমজিডি জল আসার কথা। বাস্তবে তা আসত ১ থেকে ২ এমজিডি।
ফলে প্রায় ছয় থেকে সাত এমজিডি জলের ঘাটতি থাকছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল সংকটের ছবি অব্যাহত। শহরের ২৬ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সমস্যা তীব্র। এছাড়া ১৬, ১৭, ১৮, ২০,২২, ২৫, ৩১, ৩২ প্রভৃতি ওয়ার্ডে জল সমস্যা যথেষ্ট। সমস্যার আশু সমাধানে কেএমডিএর উদ্যোগে শহরজুড়ে প্রায় ৬০টি ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি, পুরসভার ১০০ কোটি টাকার নতুন জল প্রকল্পের কাজও শেষ পর্যায়ে। তাতে পুরসভা নতুন করে দৈনিক ১০ এমজিডি পরিস্রুত জল পাবে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে এই জল প্রকল্প চালু হলে পানিহাটির কয়েক দশকের পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
অন্যদিকে, পানিহাটির রামচন্দ্রপুরে পুরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড ছিল। গত দুবছর সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ। জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিলকান্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পানিহাটির নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। খরচ হচ্ছে ১০০ কোটির বেশি। কেএমডিএর উদ্যোগে রামচন্দ্রপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমে থাকা কয়েক দশকের পুরানো নোংরার স্তূপ সরানোর কাজও শুরু করা হয়েছে।
পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় পানিহাটিকে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ১০০ কোটির নতুন জল প্রকল্প এক-দুই মাসের মধ্যে চালু হবে। স্থায়ী সমাধান হবে কয়েক দশকের পানীয় জল সমস্যার। জঞ্জাল সমস্যার সমাধান বামেরা ৩৫ বছরেও করেনি। ১০০ কোটিতে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হলে জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। মানুষ চোখের সামনে আধুনিক পানিহাটি তৈরির রূপরেখা দেখছেন। প্রচারে এই সত্যই তুলে ধরা হচ্ছে। তাতে যে সাড়া পাচ্ছি তা অভাবনীয়।
যদিও বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ওরফে ভোলা বলেন, পানিহাটিতে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষ একজোট হয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাস, খুন, প্রোমোটারিরাজ ও লুটতরাজের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছেন মানুষ।