• বিজেপির স্বেচ্ছাচার গুঁড়িয়ে দিন: মমতা
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, দিনহাটা ও আলিপুরদুয়ার: নির্বাচন কমিশনকে ঢাল করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি-সিবিআই ও এনআইএ দিয়ে বাংলায় ‘অত্যাচার’ চালাচ্ছে বিজেপি। নিরপেক্ষ নির্বাচন করানোর বদলে ‘বাঁদরামো’ চলছে। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ তুলে বিজেপি-কমিশনের আঁতাতের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘বিজেপির স্বেচ্ছাচারিতা গুঁড়িয়ে দিন। বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্তের জবাব দিন।’ একইসঙ্গে পদ্মপার্টিকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমোর হুংকার, ‘৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর ওদের মুখোশ খুলে দেব। বাংলা দখল করেই দিল্লি দখল করব। বাংলাকে টার্গেট করলে দিল্লি থেকেও আপনাদের টেনে নামাব। গণতান্ত্রিকভাবে পরাস্ত করব।’ 

    মমতার দাবি, ‘বাংলায় বিজেপি যা করছে, তার বিরুদ্ধে সবাই এককাট্টা। মহারাষ্ট্রের উদ্ধব থ্যাকারে কথা বলতে চান। তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন, তেজস্বী কথা বলতে চাইছেন। অখিলেশ ফোন করছেন। বাংলায় আসতে চাইছেন ওঁরা। সভাস্থলে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে নেত্রীর প্রশ্ন, ‘মা-বোনেরা বলুন, বিজেপির চক্রান্তের বিরুদ্ধে আপনাদের রায় দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি নেই? বিজেপির অত্যাচার মেনে নেবেন?’ মাথাভাঙা, দিনহাটা এবং আলিপুরদুয়ারের সভাস্থলের জনজোয়ার সমস্বরে সায় দিয়েছে। আর এই জবাব শুনেই মমতার প্রত্যয়ী বার্তা, ‘ভয় পাবেন না। অধিকারের জন্য ভোট দিন। বিজেপিকে বিনাশ করুন।’ বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে বিজেপি। দেশটাকে টুকরো করতে চাইছে।—এই দাবি করে তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য, ‘আমরা তো ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে। অনেকদিন ধরে ওই বিল ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে এখন ডিলিমিটেশন জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? দুটো বিল আলাদা। আসলে এটা আবার ভোট কাটার চক্রান্ত। এনআরসির চক্রান্ত।’ কেন্দ্রে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘স্বৈরাচারী ও বজ্জাত’ বলেও আক্রমণ শানান নেত্রী। বলেন, ‘আমি অনেক সরকার দেখেছি। অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। কিন্তু এমনটা কখনও দেখিনি।’ বলেন, ‘এসআইআরের আসল কারণ কী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, কেন এসআইআর করেছেন। যাঁর নাম কাটা গিয়েছে, তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নেবেন। কিন্তু বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি, আমি থাকতে কাউকে বাতিল করতে দেব না। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে ৬০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এনিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। ৩২ লক্ষের নাম উঠেছে। বাকিটাও তোলা হবে।’ 

    নয়ডা কেন জ্বলছে, তা নিয়েও তোপ দাগেন নেত্রী। পাশাপাশি আক্রমণ করেন চাকরির নামে মোদি সরকারের ‘ভাঁওতাবাজি’ নিয়েও। মমতা বলেন, ‘বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল। তাহলে ১২ বছরে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। রেলে একটা গ্যাংমানের চাকরি হয়েছে?’ আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে চা বাগান নিয়ে মোদির দেওয়া ‘ভুয়ো’ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রীর তোপ, ‘প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি চা বাগান খুলে দেবেন বলেছিলেন। একটিও খুলতে পারেননি। আমরা খুলে দিয়েছি। এখন টাকা দেওয়ার নাম করে এজেন্সি দিয়ে শ্রমিকদের ফর্ম ফিল আপ করাচ্ছে। নাম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ভোটের পরই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)