ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন শঙ্কিত যুবকের
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন যুবক। জমা দিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় নথি। তবু চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠেনি মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা সুমিতাভ মুখোপাধ্যায়ের। ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় সপরিবারে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন যুবক। মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়া বাবুপাড়ার বাসিন্দা সুমিতাভ। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে আমি ‘ডিলিটেড’। তাঁর দাবি, এসআইআর চলাকালীন সমস্ত তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার পর খসড়া তালিকায় নাম ছিল। নোটিস পেয়ে ৫ জানুয়ারি হাজির হন শুনানিতেও। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম উধাও।
যুবকের বাবা স্বপন মুখোপাধ্যায় (৮০) অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্মী। মা শ্বাশতী মুখোপাধ্যায় (৬৭) এবং স্ত্রী মালা মুখোপাধ্যায়ের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বহাল। বাদ পড়েছেন শুধু সুমিতাভ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলাশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া আবেদনে সুমিতাভ লিখেছেন, ভারতের বৈধ নাগরিক হয়েও যদি ভোট দিতে না পারি, তার থেকে বড়ো ব্যর্থতা আর কিছু নেই। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আরও একধাপ এগিয়ে তাঁর আশঙ্কা, আমাকে যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয় আমার পরিবার শেষ হয়ে যাবে। আমাকে সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক। ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে এসআইআর পদ্ধতি! সুমিতারভর একমাত্র পথ ট্রাইবুনালে আবেদন। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি ট্রাইবুনালে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখানেই নেওয়া হবে।