প্রথম দফার ভোটগ্রহণ: ফৌজদারি মামলায় রাজ্যে এগিয়ে বিজেপির প্রার্থীরা
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার নিরিখে এক নম্বরে স্থানে রয়েছে বিজেপি। তাদের ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে (৭০ শতাংশ) ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলা আছে ৯৬ জনের বিরুদ্ধে (৬০ শতাংশ)। খুন, খুনের চেষ্টা, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রভৃতি গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য। প্রথম দফার ভোটের প্রার্থীদের মনোনয়পত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামাগুলি পর্যালোচনা করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ওয়েষ্টবেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ বৃহস্পতিবার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তার থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে মোট ১৭৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন (২৩ শতাংশ) তাদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার কথা এফিডেবিটে জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২৯৪ জনের (২০ শতাংশ) বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা আছে। খুন ও খুনের চেষ্টার মামলা আছে যথাক্রমে ১৯ এবং ১০৫ জনের বিরুদ্ধে। ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের ঘটিত অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ছ’জন ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত। এই সব নির্দিষ্ট অপরাধ সংক্রান্ত কেস অনুযায়ী দলগত অবস্থান অবশ্য সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে (৪০ শতাংশ) ফৌজদারি মামলা আছে। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলা আছে ৪৮ জনের বিরুদ্ধে। সিপিএমের ৯৮ জন প্রার্থীদের মধ্যে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩ ও ৩৬। কংগ্রেসের ১৫১ জন প্রার্থীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম ৩৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। এর মধ্যে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টি (৪০ শতাংশ) এমন আছে যেখানে তিন বা তার বেশি সংখ্যক প্রার্থী ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। এই কেন্দ্রগুলির জন্য লাল সতর্কতা দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
ইলেশকশন ওয়াচের রিপোর্টে প্রার্থীদের সম্পদ , শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রভৃতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি সম্পদ আছে ৩৫ জন প্রার্থীর। মোট ৩০৯ জন প্রার্থী (২১ শতাংশ) সম্পদের নিরিখে কোটিপতি। তৃণমূলের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জন কোটিপতি। বিজেপির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৭১, কংগ্রেসের ৫০ ও সিপিএমের ২৪ জন ১ কোটি বা তার বেশি সম্পদের প্রার্থী। প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে ধনী মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের তৃণমূল প্রার্থী জাকির হুসেন (১৩৩ কোটি)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধনী প্রার্থীও তৃণমূল কংগ্রেসের। বাঁকুড়া বড়জোড়া কেন্দ্রের গৌতম মিশ্রর সম্পদ ১০৫ কোটি টাকার। দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের কবি দত্তর মোট সম্পদ ৭২ কোটি টাকার। সব থেকে কম সম্পদের প্রার্থীরা কেউ বড় কোনও রাজনৈতিক দলের নন। ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা সম্পদের প্রার্থীদের মধ্যে দু’জন এসইউসি’র, একজন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (৫০০ টাকা)। সব থেকে বেশি ঋণগ্রস্ত তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের ও একজন কংগ্রেসের। বড়জোড়া কেন্দ্রের গৌতম মিশ্রের ২৫ কোটি টাকার ঋণ আছে। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির তৃণমূল প্রার্থী রবীন মণ্ডলের ২৩ কোটি টাকার ও ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মোতাব শেখের ১৩ কোটি টাকার ঋণ আছে। বছরে সব থেকে বেশি আয় করা প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের জাকির হুসেন (৫ কোটির বেশি)। দ্বিতীয় স্থানে আছেন রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী (৫ কোটির বেশি)। তৃতীয় স্থানে আছেন বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্র (৪ কোটির বেশি)। প্রার্থীদের মধ্যে ৭০৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ থেকে ১২ শ্রেণির মধ্যে। ৬৯৮ জন স্নাতক বা তার থেকে উচ্চ ডিগ্রি ধারী। ২৯ জন প্রার্থী শুধু সই করতে পারেন। ১৪ জন স্বঘোষিত নিরক্ষর।