শ্যাডো জোনেও একশো শতাংশ ওয়েব কাস্টিং, কঠোর নির্দেশ কমিশনের
বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম দফা নির্বাচনের আগে ওয়েব কাস্টিং নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন আগে জানিয়েছিল, রাজ্যের সব বুথে একশো শতাংশ ওয়েব কাস্টিং নিশ্চিত করা হবে। তবে সে কাজের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ‘শ্যাডো জোন’ (কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা)। এবার সেই শ্যাডো জোনগুলিতে ওয়েব কাস্টিং নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল কমিশন।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে ৬৪২টি শ্যাডো জোন রয়েছে। তার মধ্যে ২৬২ জোনকে ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ফরাক্কা, আলিপুরদুয়ারে রয়েছে সবথেকে বেশি শ্যাডো জোন। এই সমস্ত জায়গায় ক্যামেরার মধ্যেই সিম ও বিশেষ চিপ দেওয়া থাকবে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ওই চিপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে যাতে নজরদারির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়। এছাড়া বুথের ভিতর এআই যুক্ত ক্যামেরা থাকবে। তাতে ভোটকেন্দ্রে চারজনের বেশি ভোটার থাকলেই চলে আসবে আধিকারিকদের নজরে। এছাড়াও ইভিএমের কাছে একজনের বেশি থাকলে জানিয়ে দেবে সে ক্যামেরা।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে থেকেই রাজ্যের সবক’টি বুথে ক্যামেরায় নজরদারি অর্থাৎ ওয়েব কাস্টিং করতে চলেছে কমিশন। এই মর্মে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলা শাসকদের নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছে। নির্দেশে বলা, বুথের বাইরেও এমনভাবে ক্যামেরা রাখতে হবে যাতে চারপাশের ১০০ মিটার এলাকা চলে আসে নজরদারির আওতায়। এর ফলে ভোট দিতে আসা মানুষ লাইন ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবেন। এর পাশাপাশি বুথের চারপাশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাও চলে আসবে নজরে। ভোটের দু’দিন আগে থেকে (প্রথম দফার ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল) ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে নজরদারি চালাতে হবে। কোনো ক্যামেরা কাজ না করলে তৎক্ষণাৎ তা বদলে ফেলতে হবে বলে উল্লেখ থাকবে নির্দেশে। পাশাপাশি যাবতীয় ক্যামেরা কার্যকর কি না তা জানিয়ে ভোটের দু’দিন আগেই ডিইও’দের এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে কমিশন।
বুথের ভিতর কীভাবে ক্যামেরা রাখতে হবে তা নিয়েও পৃথক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা, বুথের ভিতর এমনভাবে ক্যামেরা রাখতে হবে যাতে ভোটারকে চিহ্নিত করা যায়। ভোটদানের পর ভোটারের হাতে যে কালি লাগানো হয় তাও ক্যামেরায় দেখতে পাওয়া চাই।