• ‘৪৯ লাখ ভোটারের জন্য মাত্র একজন সাংসদ?’ ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের তোপ শাহের
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে গেলে ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেনদ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস অনিবার্য। আর এই আসন বৃদ্ধিতে কোনও বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কমবে না। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে চলমান উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    এ দিন লোকসভায় অমিত শাহ জানান, ৫০ বছর ধরে ডিলিমিটেশন না হওয়ায়, বর্তমানে এমনও কিছু লোকসভা কেন্দ্র আছে যেখানে সাসংদকে ৪৯ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কী ভাবে একজন সাংসদ কোনও নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৯ লক্ষ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন? তিনি সকলকে মুখও দেখাতে পারেন না।’ শাহ দাবি করেন যে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্বের স্বার্থেই লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

    মহিলা সংরক্ষণ বিলের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কেন এখন এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা? এই প্রশ্নের জবাবে শাহ মনে করিয়ে দেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন স্থগিত রাখা হয়েছিল।

    তিনি জানান, ২০২৩ সালের আইনেই পরিষ্কার বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী জনগণনার পরেই এটি কার্যকর হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে গেলে ডিলিমিটেশনের কোনও বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

    দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকে লোকসভা আসন কমে যাবে বলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ২৩.৭৬%। ডিলিমিটেশনের পরে এই প্রতিনিধিত্ব থেকে বেড়ে ২৩.৮৭% হবে।

    অমিত শাহ দাবি করেন, বিরোধীরা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার এটা কোনও ভাবেই হতে দেবে না। এমনকি বিরোধী দলগুলো যদি আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ধারায় রাজি হয়, তবে সরকার সেই সংশোধনী আনতেও প্রস্তুত।

    শাহের ‘উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের পরেই সংসদে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল রাজ্যগুলির জন্য লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করলে শাহ পাল্টা তোপ দেগে বলেন, বিরোধী INDIA জোট ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’ দিয়েই বিলটিকে আটকাতে চাইছে। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব সরকারের উপরে জানিয়ে দেন, BJP সরকারের উপরে তাদের কোনও আস্থা নেই। তারা লিখিত আশ্বাস দিলেও তাঁরা বিশ্বাস করবেন না।

  • Link to this news (এই সময়)