• বিল পাশ করাতে ফের ব্যর্থ মোদী সরকার! মহিলা সংরক্ষণের জন্য আসন বৃদ্ধিতে সায় নেই লোকসভার
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিলে আপত্তি ছিল না কারও। পাশও হয়ে গিয়েছিল সর্বসম্মতিতে। কিন্তু এই আইন কার্যকর করতে লোকসভার আসন বৃদ্ধির প্রস্তাব জুড়ে যে নতুন সংবিধান সংশোধনী এনেছে মোদী সরকার, তাতে সায় দিল না লোকসভা। শুক্রবার রাতে এই বিলের উপরে ভোটাভুটিতে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। সংবিধান সংশোধনীর এই বিলটি পাশ করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হলো মোদী সরকার।

    শুক্রবার রাতে লোকসভায় বিলটির উপরে ডিভিশন বা বিভাজন ভোটাভুটি হয়। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। বিলটি পাশ করানোর জন্য ন্যূনতম ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ জন সাংসদ। ফলে লোকসভায় খারিজ হয়ে যায় বিলটি।

    ভোটাভুটির আগে শাসক-বিরোধী তুমুল বিতর্ক চলে এই বিল নিয়ে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, সংসদে এর আগে যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছিল, তখন কেন এই পরিবর্তনগুলি করা হয়নি? তিনি বলেন, ‘মহিলা কোটা আইন সংশোধন এবং ডিলিমিটেশন প্যানেল গঠনের এই বিলগুলি অসাংবিধানিক।’

    বিলটি পেশ করার বিষয়ে তাড়াহুড়ো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, ‘আমরা মহিলা কোটা সমর্থন করি, কিন্তু আগে জনগণনা করা হচ্ছে না কেন?’

    DMK নেতা টি আর বালু বলেন, ‘আমরা ২০২৩ সালের মহিলা কোটা আইনের পক্ষে, কিন্তু বর্তমান বিলটি আসলে ডিলিমিটেশন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।’ RSP নেতা এন কে প্রেমচন্দ্রনও এই বিলের বিরোধিতা করে জানান, সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং ডিলিমিটেশনের জন্যই আনা হয়েছে এটি।

    বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রক্রিয়া চলছে এবং কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জাতিভিত্তিক জনগণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ যে সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’, তা স্পষ্ট করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবারই বিরোধী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী না হলেও, ডিলিমিটেশন বা আসন বৃদ্ধির এই সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ভোট দেবে। শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটিতে সেই বিরোধী ঐক্যেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর তাতেই ব্রডকাস্টিং সার্ভিসেস (রেগুলেশন) বিল, ২০২৪, UPSC ল্যাটারাল এন্ট্রি, এক দেশ, এক নির্বাচন (সমসময়িক নির্বাচন) সংশ্লিষ্ট বিলের মতো এই বিলটি পাশ করাতেও ব্যর্থ হলো মোদী সরকার।

  • Link to this news (এই সময়)