বেশি ভোট পেল। তা সত্ত্বেও লোকসভায় পাশ করানো গেল না মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভার আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতের ভোটাভুটিতে বড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিলটি কেন খারিজ হয়ে গেল, এই প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে। আসুন বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক:
শুক্রবার লোকসভায় বিলটির উপরে ভোটাভুটিতে মোট ৫২৮ জন সাংসদ অংশ নেন। এর মধ্যে বিলের পক্ষে ভোট দেন ২৯৮ জন এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। অর্থাৎ, না-ভোটের চেয়ে হ্যাঁ-ভোটের সংখ্যা অনেকটাই বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও বিলটি পাশ হয়নি।
আসলে সংবিধান সংশোধনী ও সাধারণ বিল পাশের নিয়মটা একটু আলাদা। যে কোনও সাধারণ বিলের ক্ষেত্রে উপস্থিত সাংসদদের অর্ধেকের বেশি সমর্থন পেলেই বিলটি পাশ হয়। কিন্তু সংবিধানের ৩৬৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের (৬৬.৬%) সমর্থন বাধ্যতামূলক। শুক্রবারের ভোটে অংশ নেন ৫২৮ জন। কাজেই এই ক্ষেত্রে ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছিল ৩৫২। মোদী সরকার সেই সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়।
এই বিলে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০টি করার প্রস্তাব ছিল। বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, এই বিলের সঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি আসলে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলের চেষ্টা। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটও এই বিশেষ অধিবেশন শুরুর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তারা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে। তবে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করবে। এই ক্ষেত্রে এ দিন জোটের মধ্যে ঐক্য দেখা গেল।