• দার্জিলিংয়ে টয় ট্রেনের বিশেষ সংস্করণ
    আজকাল | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের আগে পাহাড়ের মানুষের কাছে পৌঁছতে অভিনব উদ্যোগ নিল দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শুক্রবার দার্জিলিং স্টেশনে শুরু হলো ‘মেগা সুইপ’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের প্রধান আকর্ষণ ছিল ডিএইচআর-এর আইকনিক টয় ট্রেনের বিশেষ সংস্করণ—‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’। টয় ট্রেনের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সুনাম বাড়িয়েছে। পর্যটন পরিষেবার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা নেয় দার্জিলিং হিমালয়্যান রেলওয়ে বা  ডিএইচআর। এবারের উদ্যোগও তেমনই এক অনন্য প্রয়াস।

    দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু পরিবহণের মাধ্যম নয়, এটি পাহাড়ের আবেগের প্রতীক। ১৮৮১ সালে চালু হওয়া এই ন্যারোগেজ রেল পরিষেবা তার প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও পাহাড় জুড়ে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ মর্যাদা দেয়। সেই ঐতিহ্যবাহী ট্রেনকেই এবার গণতন্ত্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। শুক্রবার ঐতিহাসিক দার্জিলিং স্টেশনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রথাগত ‘খাদা’ অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হরিশঙ্কর পানিকরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শেরপা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী স্বাগত নাচ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে ভোটদানের জন্য উৎসাহিত করা। সেই উদ্দেশ্যে দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপ পর্যন্ত ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’ নামে বিশেষ টয় ট্রেন চালানো হয়। ট্রেনের প্রতিটি বগিতে ছিল ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা নানা পোস্টার। পাশাপাশি যাত্রাপথে মাইকিং করে ভোটারদের নির্ভয়ে ও সৎভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।এই প্রসঙ্গে ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্রের উৎসবকে সফল করতে সকল ভোটারের অংশগ্রহণ জরুরি। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা মানুষের কাছে নির্বাচনী সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, এই ঐতিহাসিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।”

    এদিন একটি বৃহৎ স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানও চালানো হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। শৈলশহরে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ট্রেনটি পাহাড়ের বিভিন্ন স্টেশনে থেমে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ভোটদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াবে। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করাই এই ‘মেগা সুইপ’ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, হেরিটেজ টয় ট্রেনের এই উদ্যোগ পাহাড়ের প্রতিটি কোণে গণতন্ত্রের বার্তা পৌঁছে দিয়ে আগামী নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদানে সহায়ক হবে।
  • Link to this news (আজকাল)