• ‘নারী ক্ষমতায়ন নয়, দেশদ্রোহ’, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে তুলোধোনা, বিজেপিকে তোপ রাহুলের
    প্রতিদিন | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • মহিলাদের ক্ষমতায়ন মোটেই নয়, বরং ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। শুক্রবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক এই মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর মতে, মহিলা সংরক্ষণের নামে কেন্দ্র যে বিল পাশ (Women Reservation Bill) করাতে চাইছে সেটা আসলে দেশদ্রোহী আইন। ছোট রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব একেবারে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হবে সংসদে।

    শোনা যাচ্ছে, ২০১১ জনগণনা অনুযায়ী আসন বাড়াবে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ শেষবার আসন পুনর্বিন্যাসের পর থেকে উত্তর ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দক্ষিণ বা পূর্ব ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। এখানেই আপত্তি বিরোধীদের। তাঁরা মনে করছেন, গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে বেশি আসন থাকার দরুণ ওই রাজ্যগুলিতেই বেশি গুরুত্ব দেবে রাজনৈতিক দলগুলি। অন্য রাজ্যগুলি গুরুত্ব হারাবে।

    শুক্রবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ইস্যুই তুলে ধরেছেন রাহুল গান্ধী। অসম এবং জম্মু-কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার চাইছে গোটা দেশের ভোট মানচিত্রটা আমূল বদলে ফেলতে। তার ফলে উত্তরপূর্ব, দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আসলে বিজেপি চাইছে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে। সেকারণেই একাধিক রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি। দেশদ্রোহের থেকে কোনও অংশে কম নয় বিজেপির এই পদক্ষেপ।” এখানেই শেষ নয়, রাহুল আরও বলেন, “সত্যি কথা এটাই যে এই বিলটা মোটেও মহিলাদের জন্য নয়। মহিলা ক্ষমতায়নের কোনও চেষ্টা হচ্ছে না এই বিলের মাধ্যমে।”

    রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সুর চড়ায় ট্রেজারি বেঞ্চ। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংশোধনী বিলের পক্ষে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, “পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ-কোনও রাজ্যের প্রতি অবিচার হবে না এটা আমার গ্যারান্টি।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দাবি করেন, “দক্ষিণী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং বাড়বে।” কিন্তু কোন মাপকাঠিতে আসন পুনর্বিন্যাস হবে, বিল পেশ হয়ে যাওয়ার পরেও সেই তথ্য সকলের অজানা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)