• ভারতের রাজনীতিতে মহিলারা, ৭ দশকেও পার হয়নি ১৫ শতাংশের গণ্ডি!
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের দাবি নিয়ে তোলপাড় সংসদ। ২০২৩ সালেই নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাশ হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর করতে এর সঙ্গে ডিলিমিটেশন বা আসন বৃদ্ধিকে জুড়ে দিয়ে নতুন সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছে মোদী সরকার। শুক্রবার লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে বিলটি, পাশ হয়নি। কাজেই বলা যেতে পারে মহিলা সংরক্ষণের আইন কার্যকর হওয়ার পথে এখনও বিস্তর কাঁটা রয়ে গেল।

    ভারতীয় রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানটা কিন্তু বড়ই অস্বস্তিকর। স্বাধীনতার পর সাত দশক কেটে গিয়েছে, তার পরেও আইনসভাগুলিতে মহিলাদের উপস্থিতি ১৫ শতাংশের গণ্ডিও ছুঁতে পারেনি। বর্তমান লোকসভায় মহিলা প্রতিনিধিত্বের হার মাত্র ১৩.৬ শতাংশ!

    জাতীয় দলগুলির মধ্যে BJP বা জাতীয় কংগ্রেস— মহিলা প্রতিনিধিত্বের হারে কেউই খুব একটা সন্তোষজনক জায়গায় নেই। পরিসংখ্যান বলছে, BJP-র ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে মহিলা মাত্র ১২.৯ শতাংশ। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই হার ১৪.৩ শতাংশ। এখানেই চমকে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভায় অন্তত ১০ জন সাংসদ রয়েছে যে দলগুলির, তাদের মধ্যে মহিলা সাংসদের শতাংশের বিচারে তৃণমূলই শীর্ষে। তাদের ৪৬ শতাংশ সাংসদ মহিলা।

    তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভায় মাত্র ৪.৯ শতাংশ, ২৪ জন মহিলা সাংসদ ছিলেন। এই হার দুই অঙ্কের ঘরে (১০.৯%) পৌঁছতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০ বছর। সংসদীয় রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যায় ১৭তম লোকসভায় মহিলাদের সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি। প্রায় ১৪.৩৬ শতাংশ। উল্টোদিকে, ১৯৭৭ সালের লোকসভায় এই হার সবথেকে কমে গিয়েছিল, দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৩.৫ শতাংশে।

    দেশের বিধানসভাগুলির চিত্র আরও ভয়াবহ। ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ছত্তিশগড় (২১.১%) বাদে কোনও রাজ্যেই ১৫ শতাংশের বেশি মহিলা বিধায়ক নেই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মহিলা বিধায়কের হার ১৩.৬ শতাংশ। কর্নাটক (৪.৫%), তামিলনাড়ু (৭.৩%) বা গুজরাটের (৭.৭%) মতো বড় রাজ্যগুলির অবস্থা তো খুবই খারাপ। উত্তর-পূর্বের রাজ্য নাগাল্যান্ডের বিধানসভায় ২০২৩ সালে প্রথম কোনও মহিলা বিধায়কের পা পড়ে।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পরে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের আনুপাতিক হার অনেকটাই বদলাতে পারে। তবে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইনি কবজ ছাড়া এই বৈষম্য দূর হওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ রাজনৈতিক দলগুলির যে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, তা স্বাধীনতা পরবর্তী এই হতাশাজনক পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।

  • Link to this news (এই সময়)