রাজ্যের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ করা হবে তা আগেই জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে ইশতেহার। এ বার শুধুমাত্র গোপীবল্লভপুর এলাকার জন্য আলাদা ইশতেহার প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অজিত মাহাতো। সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকার বহু মানুষ স্থানীয় ভাষায় কথা বলেন। এ বার সেই ‘সুবর্ণরৈখিক ভাষা’ বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার ‘প্রতিজ্ঞা’ করলেন তিনি। এরই সঙ্গে সেতু, হাসপাতাল, রাস্তা, চেক ড্যাম, হিমঘর নির্মাণ-সহ একগুচ্ছ প্রকল্প করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে ওই ইশতেহারে।
বৃহস্পতিবার, অজিত মাহাতোর সমর্থনে সভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর, তার পরের দিনেই ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য ইশতেহার প্রকাশ করেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) প্রার্থী। শুক্রবার, লোধাশুলিতে ঝাড়গ্রাম ব্লক তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ওই ইশতেহার বা ‘প্রতিজ্ঞা পত্র’ প্রকাশ করেন তিনি।
কী জানানো হয়েছে এই ইশতেহারে (Election Manifesto)? সেখানে যোগাযোগ উন্নততর করার জন্য নদী-খালের উপর সেতু ,ঝাঁ চকচকে রাস্তা, চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আলু ও সব্জি মজুত করার জন্য হিমঘর, কৃষিকাজের উন্নয়নের জন্য চেক ড্যাম-সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজ আগামী পাঁচ বছরে করা হবে বলে জানিয়েছেন অজিত মাহাতো।
কংসাবতী নদীর উপর ঝাড়গ্রাম (Jhargram) ব্লকের আমদই নদী ঘাটে ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুরের যোগাযোগের জন্য দীর্ঘদিনের সেতুর দাবি রয়েছে। সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে শুধুমাত্রা আমদই ঘাটে নয়, এলাকায় একাধিক সেতু নির্মাণ করা হবে। তপসিয়া চক থেকে গোয়ালমারা পর্যন্ত বেলিয়াবেড়া এলাকার ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একাধিক নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।
সাঁকরাইল ব্লকে ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতাল ৪০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে। এই বিধানসভায় অন্তত দু'টি স্টেডিয়াম করার কথাও বলা হয়েছে।
তবে সব থেকে বড় প্রুতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সুবর্ণরৈখিক ভাষা নিয়ে। স্থানীয় এই ভাষাকে গুরুত্ব দিতে সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ‘সুবর্ণরেখা ভাষা চর্চা কেন্দ্র’ স্থাপন করার ঘোষণা করা হয়েছে ইশতেহারে। এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল সুবর্ণরৈখিক ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অজিত মাহাতো বলেন, ‘১৫ বছরে এলাকায় শিক্ষা,স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা আমি পূরণ করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের সময় মানুষজন যে অভিযোগ জানিয়েছেন তাও পূরণ করা হবে।’
যদিও এই ইশতেহারকে নির্বাচনী প্রচারে চমক বলে কটাক্ষ করছেন গোপীবল্লভপুর (Gopiballavpur) বিধানসভার সিপিআই (CPI) প্রার্থী বিকাশ ষড়ঙ্গী। তাঁর দাবি, কোনও গঠনমূলক পরিকল্পনা না করে শুধু মাত্র ভোট বৈতরণী হওয়ার জন্যর এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।