এই সময়: ভোটের বাজারে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এমন দাপাদাপি আগে কখনও দেখেছে দেশ? ফের এই প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে দুই জনসভাতেই এজেন্সি নিয়ে মমতার আবেদন, ‘একতরফা একটা দলের হয়ে কাজ করবেন না।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্দেশেও তিনি একই কথা বলেন। মমতার অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক লড়াইয়ে হেরে গিয়েছে বুঝতে পেরেই বিজেপি ময়দানে এজেন্সি নামিয়েছে। ওরা জোর করে বাংলা দখল করতে চাইছে। এর বদলা হবে। এসআইএর-এর নামে মানুষের উপর যে অত্যাচার চলছে, তার বদলা হবে।’
শুক্রবার দুপুরে কোচবিহারে প্রথম সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ততক্ষণে তাঁর রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী, তথা বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দপ্তরের তল্লাশির ৮ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে। বক্তব্যের মাঝপথে সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতার প্রশ্ন, ‘একজন প্রার্থীর বাড়িতে এই সময়েই হানা দিতে হলো? দরকার হলে ভোটের পরে করতে পারতে। এর উদ্দেশ্য সবাই বুঝতে পারছে। এর আগে ভোটের সময়ে এজেন্সির এমন দাপাদাপি দেখা যায়নি।’ এ দিন বিকেলে দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠের সভাতেও একই প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব এজেন্সিকে আমার অনুরোধ, একতরফা ভাবে একটা দলের জন্য কাজ করবেন না। দেশের জন্য কাজ করুন। আপনাদের সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই।’
বিজেপি দিনের পর দিন বাংলার মানুষের উপরে নানা ভাবে অত্যাচার করছে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে। কিন্তু অত্যাচার হলে দুরন্ত খেলা খেলতে জারি। এ বার সেই দুরন্ত খেলা হবে। বাংলা জয় করে দিল্লিকে জয় করব, কথা দিলাম। আমি চেয়ার চাই না। কিন্তু মানুষের উপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, আমি রাজনৈতিক ভাবেই তার বদলা নেবই নেব।’ বিজেপির উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। আর এটা তো অত্যাচারের উৎসব চলছে। কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, এই হানাগুলো যখন তোমাদের বাড়িতে হবে, তখন সামলে নিও।’
কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে মমতার মন্তব্য, ‘দেখছি, মহিলারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, ওরা ব্যাগ খুলে দেখছে! আমি ভাবি, কী খুঁজছে? লিপস্টিক খুঁজছে নাকি?’ এর পরেই মহিলাদের সাবধান করে বলেন, ‘আপনারা চোখ-কান খোলা রাখবেন। কোন দিন দেখবেন ব্যাগে কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ধরে নিয়ে যেতে পারে! খুব সাবধান। আমি শুনেছি, এ রকমও বলা হচ্ছে যে, ব্যাগে গাঁজা ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তা হলে চট করে জামিন পাবে না। ফলে সকলকেই বলব সাবধান থাকতে।’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাই বলুন, কেউ তাঁর কথা শুনছে না। পাত্তাও দিচ্ছে না। কারণ, তাঁরা জানে, গত ১৫ বছর ধরে কারা বাংলার মানুষের উপরে অত্যাচার চালিয়েছে, কারা তাদের হকের দাবি, প্রাপ্য নিয়ে দুর্নীতি করেছে।’