• পোস্টার ছেঁড়ায় শিশুকে মার! পদ্মকে কড়া বার্তা অভিষেকের
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: বাচ্চা মেয়েটি বাড়ির সামনে আপনমনে খেলছিল। দু’বছরের ছোট্ট হাতে ছোট্ট একটি লাঠি। খেলতে খেলতে বাড়ির কাছেই লাগানো বিজেপি–র একটি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে সে। আর তখনই বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপির কিছু কর্মী। অভিযোগ, দলের পোস্টার ছিঁড়ে যাওয়ায় ‘ক্ষুব্ধ’ কর্মীরা চড়াও হন বাচ্চাটি ও তার মায়ের উপরে এবং তাঁদের মারধরও করা হয়।

    পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের এই ঘটনায় বাচ্চার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে, সাধারণত মারধরের অভিযোগ জমা পড়লে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোই নিয়ম। এ ক্ষেত্রে সেই শারীরিক পরীক্ষা হয়নি বলেই পুলিশ সূত্রের খবর। কেন? তার সদুত্তর মেলেনি। নাকিন্দী গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিজেপির কর্মীরা এসে হুমকি দিলেও মারধরের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। এমনকী, মহিলার অভিযোগপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। কারণ, দু’টি অভিযোগপত্র সামনে এসেছে। কালো কালিতে লেখা অভিযোগে কোথাও পোস্টার ছেঁড়ার কথা উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু লেখা, পুরোনো রাগের জেরে তাঁদের মারধর করা হয়েছে। আর নীল কালিতে লেখা অভিযোগে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

    ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সবংয়ের তেমাথানি পল্লীশ্রী রাইস মিলের মাঠে সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার সমর্থনে জনসভায় অভিষেক জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন অভিযুক্তদের ঘাড় ধরে ওই মহিলা ও তাঁর বাচ্চার পায়ের কাছে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাওয়াবেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, বিজেপি যদি এ ভাবে শান্তি–শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তা হলে ভোটে জেতার পরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি ডিজেও বাজানো হবে। তিনিও অবশ্য ‘মারধর’–এর কথা বলেননি। শাসানি ও হুমকি দেওয়ার কথা বলেছেন। জনসভায় অভিষেক বলেন, ‘ভাবুন এরা (বিজেপি) কত নীচে নেমেছে। এক জন মহিলাকে তাঁর দু’বছরের বাচ্চার সামনে শাসানি, হুমকি, ধমক দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি নেতারা চমকে গিয়েছে, এলাকায় থাকতে পারবে না। বেরতে পারবে না। ২৩ তারিখ ভোট দিতে পারবে না।’

    ওই বাচ্চার মা সাথী ঘোড়ই কুইলা বুধবার সবং থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, বৃহস্পতিবার তাঁর দু’বছরের মেয়ে একটি ছোট্ট লাঠি দিয়ে বিজেপির একটি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। তার পরেই এক দল দুষ্কৃতী এসে মেয়ের সামনেই তাঁকে মারধর করে। প্রাণে মারারও হুমকি দেয়। এই মর্মে থানায় আট জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা শুক্রবার জানিয়েছেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ৩২৩ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনায় এক জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মারধরের এই বিষয়টি সত্যি হলে তা জঘন্য অপরাধ বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। জানিয়েছেন, তার জন্য পার্টি তাঁদের শাস্তিরও ব্যবস্থা করবে।

    জনসভায় অভিষেক জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের নামের তালিকা তিনি নিয়ে রেখেছেন। ৪ মে ফল ঘোষণার পরে ব্যবস্থা নেবেন। কী ব্যবস্থা নেবেন? অভিষেক বলেন, ‘অভিযুক্তদের ঘাড় ধরে যদি সাথী এবং তাঁর মেয়ের পায়ে ফেলে ক্ষমা না চাওয়াতে পারি, তা হলে আমি এক বাপের বেটা নই। আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত উদার নয়। অনেক অত্যাচার হয়েছে। সিপিএমের অত্যাচার আমরা ভুলিনি।’

    এর পরেই সিপিএমের অত্যাচারের কথা তুলে তিনি জানান, সেই বামেরাই এখন রামে গিয়ে এই সব করছে। অভিষেক বলেন, ‘সিপিএমের অত্যচার আমরা ভুলে যাইনি। বাড়িতে সাদা থান পাঠানো হতো, কংগ্রেস সমর্থকদের পুকুরে বিষ দেওয়া হতো, বিরোধীরা ব্যানার, পোস্টার, হোর্ডিং, ফ্ল্যাগ–ফেস্টুন লাগাতে পারত না। এখন জার্সি পাল্টে বিজেপি হয়ে সবংয়ে সেই সন্ত্রাসের কালো দিন ফিরিয়ে আনতে চাও? আমরা তা দেব না।’

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিজেপির কেউ এমন কাজ করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে, জঘন্য অপরাধ করেছে। পার্টি থেকে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। শাসন করা হবে। শাস্তি পাওয়া উচিত। ওঁরা যাতে শাস্তি পান, সেটা পার্টি দেখবে।’

  • Link to this news (এই সময়)