এই সময়: রাজ্যে প্রথম দফায় ১৬ জেলার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর্ন্তজাতিক সীমান্ত লাগোয়া বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশের মোকাবিলায় কড়া নজরদারি চালাতে ড্রোন সহ আধুনিক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সোমবার থেকে বাড়তি নজরদারি চালু করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাজ্যের নদী ও জঙ্গল সংলগ্ন দুর্গম এবং সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজর রাখা হবে, যাতে ভোটের সময়ে কোনওভাবেই বাংলাদেশ, নেপাল বা ভুটান থেকে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে। সে জন্য সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে ‘নাইট ভিশন’ ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই মালদার মতো সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ও সন্দেহভাজনদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো তা নিয়ে সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে সব জেলার পুলিশ প্রশাসনের কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক(সিইও) মনোজ আগরওয়াল বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে ভাচুর্য়াল বৈঠকে এই নির্দেশ দেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং জেলার সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখন কার্যকর হয়নি বলে বৈঠক তিনি পুলিশকে সতর্ক করেন।
আজ, শনিবার নির্বাচনী প্রস্তুতি দেখতে পশ্চিম বর্ধমান যাচ্ছেন সিইও। আসানসোলে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পরে তিনি কলকাতা ফিরবেন। সোমবার সকালে বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টারে ভোটের প্রস্তুতি দেখতে রওনা দেবেন মালদা। সেখান থেকে উত্তর দিনাজপুর হয়ে রাতে কোচবিহার পৌঁছবেন। মঙ্গলবার কোচবিহার থেকে হেলিকপ্টারে পশ্চিম মেদিনীপুরে হয়ে কলকাতা ফিরে আসবেন। নির্বাচন কমিশন সিইও–র জন্য বায়ুসেনার হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করেছে। যা বিধানসভার ভোটে নজিরবিহীন। অতীতে কোনও সিইও–কে ভোটের প্রস্তুতি দেখতে হেলিকপ্টারে যেতে দেখা যায়নি।