• মেলেনি চাকরি কিংবা স্পেশাল প্যাকেজ, দিনমজুরি করে সংসার চালান উজ্জ্বল
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ঝাড়গ্রাম: 'ভোটের সময়ে আনাগোনা, ভোট ফুরোলে দেখা যায় না' — গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে গ্রামে গ্রামে একসময়ে এমনই গান জুড়তেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির শিয়াড়বিন্দার উজ্জ্বল সর্দার। ধামসা, মাদল, ঝুনঝুনি হাতে সঙ্গী থাকতেন জনা দশেক যুবক। ২০০০–এর আগে থেকে এ ভাবেই রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হচ্ছিল বেলপাহাড়ির বুকে। যার পুরো দায়িত্বভার ছিল উজ্জ্বলের কাঁধেই। তিনি মাওবাদীদের সাংস্কৃতিক দলের দায়িত্বে ছিলেন। সময়ের স্রোতে নানা মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। একাধিক মামলায় জেলও খাটেন তিনি।

    রাজ্যের পালাবদলের পরে মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্তদের মূল স্রোতে ফেরাতে স্পেশাল প্যাকেজ ও চাকরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তাঁরা যেমন সেই সুযোগ পেয়েছিলেন, তেমনই সারেন্ডার না–করলেও মাওবাদী কার্যকলাপ ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে আসা মানুষদের অনেকে সেই সুবিধে পেয়েছেন। ৫২ বছরের উজ্জ্বলের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গীরা স্পেশাল হোম গার্ডের চাকরি পেলেও তিনি স্পেশাল প্যাকেজ বা চাকরি কিছুই পাননি। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। খরচ চালাতে দিনমজুরির সঙ্গে জঙ্গল থেকে পাতা কুড়িয়ে বিক্রি করেন। বলেন, 'যাঁরা আদৌ মাওবাদী নন, তাঁরা স্পেশাল প্যাকেজ নিয়ে চাকরি করছেন। অথচ আমরা সেই বঞ্চনারমধ্যেই পড়ে রয়েছি।'

    তাঁর কথায়, 'মদন মাহাতো স্কোয়াডের সদস্য ছিলাম। আত্মগোপন করে চলতাম।' বান্দোয়ান থানার একটি মামলায় ২০২৫–এ এবং কাপড়ের গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলায় ২০২৬–এ বেকসুর খালাস হয়েছেন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, 'রাজ্যে পালাবদলের পরে ২০১৬ থেকে চাকরির জন্য পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়ে চলেছি। কয়েক মাস আগেও ফের ডাকা হয়েছিল। চাকরি পাব কি না, তা জানি না।' উজ্জ্বলের মতোই মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছিলেন শিয়াড়বিন্দা গ্রামের বিজয় সর্দার, অমর মান্ডি, মিহিরলাল মান্ডি। এখনও পর্যন্ত স্পেশাল প্যাকেজ বা চাকরি পাননি বলে তাঁদের দাবি।

    অমর বলেন, 'জেল খেটেছি। বয়স এখন ৪৮। চাকরি কবে পাব, তা জানি না। দিনমজুরি করে দিন কাটে। শুধু বেলপাহাড়িতেই ১০০ জনের বেশি প্রাক্তন মাওবাদী আছেন, যাঁরা চাকরি পাননি।' সরকারি সূত্রের খবর, যাঁরা সারেন্ডার না–করে, জেল খাটার পরে এসে চাকরির আবেদন করেছিলেন, তাঁদের চাকরি দেওয়াটা সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের বিবেচনার উপরে নির্ভরশীল। সেটা বাধ্যতামূলক নয়।

  • Link to this news (এই সময়)