এই সময়: গরমে হাসফাঁস করতে আগেই শুরু করেছে বঙ্গবাসী। আবহাওয়া দপ্তরও পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে, প্রবল গরম পড়বে এ বছর। শিয়রে সেই দাবদাহের সন্ধিক্ষণে তাই তীব্র গরম ও সম্ভাব্য তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে সর্বোচ্চ স্তরে প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দিলো স্বাস্থ্য দপ্তর। সম্প্রতি জারি করা ‘হসপিটাল রেডিনেস ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এক নির্দেশিকায় গরমের জেরে অসুস্থতা, বিশেষত হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন মোকাবিলায় গুচ্ছ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেননা, ইতিমধ্যেই পশ্চিমাঞ্চল–সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের অসুস্থতার খবর মিলছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘হিট ইলনেস কর্নার’ বা নির্দিষ্ট ও পৃথক চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইভি ফ্লুইড, ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, হিট স্ট্রোকের রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড, বিশেষ করে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে শয্যা খালি রাখতে হবে।
নির্দেশিকায় সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি ও আপৎকালীন পরিষেবায় কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাকে তৎপর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত রোগী স্থানান্তর করা যায়। এ ছাড়া, হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা কুলিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে ব্যাক-আপ পাওয়ার (জেনারেটর) প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে আউটডোর ওয়ার্ড এবং অপেক্ষমান রোগীদের জন্য ছায়াযুক্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ গরমে অসুস্থ হয়ে না পড়েন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, হিট স্ট্রোক সংক্রান্ত সব কেসের সঠিক নথিভুক্তিকরণ ও নিয়মিত রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক সরকারি–বেসরকারি, সব হাসপাতালের জন্য। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এই তথ্য স্বাস্থ্যভবনে পাঠাতে হবে নিয়মিত, যাতে পরিস্থিতির উপর ধারাবাহিক নজরদারি থাকে এবং সেই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে দুপুরের তীব্র রোদ এড়ানো, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা জানান, ‘প্রতি বছরই গরমের সময় হিট-রিলেটেড অসুস্থতার ঘটনা বাড়ে। তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষতি কমানোই আমাদের লক্ষ্য।’