• জঙ্গল, চা বাগান আর মূর্তি নদী— এই নিয়েই গাহুনবাড়ি, দু’দিন ছুটি পেলেই ঢুঁ মেরে আসুন টুক করে
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের এক হিডেন জেম Gahunbari। সিকিম ও ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মোড়া। চারপাশে সবুজের সমারোহ, নির্জনতা এবং দূর থেকে দেখা যায় Kanchenjunga-র মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা এই জায়গাটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।

    গাহুনবাড়ি এখনও পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়, তাই এখানে ভিড়ভাট্টা নেই বললেই চলে। যাঁরা নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি এক আদর্শ গন্তব্য। কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে Chapramari Forest, Gorumara National Park এবং Jaldhaka River—যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

    গাহুনবাড়ির ভ্রমণ শুরু হয় পথ চলার মধ্য দিয়েই। চাপরামারি ও গোরুমারা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়ে প্রকৃতির একের পর এক রূপান্তর—কখনও ঘন অরণ্য, কখনও সবুজ চা-বাগান, আবার কখনও পাহাড়ি ঢাল। এই পরিবর্তনশীল দৃশ্যপট পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পথে মূর্তি নদীর ধারে একটু থেমে, চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

    গ্রামে পৌঁছে কাছাকাছি স্থানগুলি ঘুরে দেখা যায়। বিন্দু একটি ছোট্ট সুন্দর শহর, যা ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এখানে জালঢাকা নদীর উপর নির্মিত বাঁধটি বিশেষ আকর্ষণ, যেখানে বহু পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। এছাড়াও ঝালং ও পারেন ঘুরে দেখার মতো জায়গা।

    গাহুনবাড়িতে পৌঁছনো খুব কঠিন নয়। প্রথমে ট্রেনে New Jalpaiguri Junction অথবা বিমানে Bagdogra Airport পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে।

    গাহুনবাড়িতে বেশ কিছু হোমস্টে ও ছোট রিসর্ট রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হয়। যদিও এটি একটি অফবিট গন্তব্য, তবুও বেশির ভাগ জায়গায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

    সারা বছরই গাহুনবাড়ি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, তবে বর্ষাকাল এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এই সময় রাস্তা কাদামাটিতে ভরা থাকে এবং যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।

  • Link to this news (এই সময়)