• ঘণ্টায় ২২০ কিমি গতিতে ট্রেন ছুটবে দেশে? নির্মাণ চলছে চেন্নাইয়ে
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ভারতে ট্রেন জোরে চ‍লে না। নামে ‘এক্সপ্রেস’ বা ‘সুপার ফাস্ট’ হলেও ঘণ্টায় ২০০ কিমি গতিবেগে চলার মতো একটা ট্রেনও নেই এ দেশে। ভারতীয় রেলের এমন বদনাম বহু দিনের। অভিযোগ মিথ্যেও নয়। সম্প্রতি যাত্রী পরিবহণের কাজে নামা বন্দে ভারত স্লিপার–ই (ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিমি) এ দেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন। তবে এ বার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২০ কিমি গতিতে চলতে পারে, এমন যাত্রিবাহী ট্রেন তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিকে।

    গত ২৩ মার্চ রেল বোর্ডের এক চিঠিতে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে কোচ উৎপাদন কর্মসূচিতে ১৬ কামরার দুটি ট্রেন চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনগুলি ব্রড গেজ লাইনে চলার উপযুক্ত হিসেবে তৈরি হবে। কামরাগুলি হবে ইস্পাতের। এর আগে ২০২৪–এর অক্টোবরে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি দু’টি হাই-স্পিড ট্রেনের নকশা, নির্মাণ ও চালুর জন্যে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থমুভার্স লিমিটেড (বিইএমএল)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে আটটি করে কামরা থাকার কথা ছিল। প্রতিটি কামরা তৈরির খরচ ধার্য হয়েছিল ২৭.৮৬ কোটি টাকা। ট্রেনের নকশা, তার রূপায়ণ ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো–সহ মোট চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকা।

    বর্তমানে ভারতে যাত্রিবাহী কোচ এবং ট্রেন তিনটি ইউনিটে তৈরি হয়—চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ), কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) এবং রায়বেরেলির মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি (এমসিএফ)–তে। এই কারখানাগুলিতে এলএইচবি কোচ, বন্দে ভারত ট্রেন, নমো ভারত, র‍্যাপিড ও রিজিওনাল মেট্রো রেক, কলকাতা মেট্রোর রেক এবং অমৃত ভারত ট্রেন তৈরি হয়।

    দ্রুতগামী রেক তৈরির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রেলপথ আরও নিরাপদ করার জন্যে রেলব্রিজের অ্যাপ্রোচ এবং পয়েন্ট ও ক্রসিং এলাকায় ‘কম্পোজিট স্লিপার’ ব্যবহারের অনুমোদনও দিয়েছে রেল বোর্ড। নতুন ধরনের এই স্লিপারগুলি প্রচলিত লোহা ও কংক্রিটের তুলনায় হালকা। এগুলি অনেকটাই বেশি ‘কুশনিং’ দেয় এবং বেশি ওজন বহনে সক্ষম। রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের স্লিপারগুলি স্থানভেদে প্রয়োজনে ‘কাস্টমাইজ’ করা যায়, ফলে বিশেষ করে ব্রিজ ও ক্রসিং এলাকায় যাত্রার মান উন্নত হবে। এগুলি প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ৭০০ কেজি পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনে রেললাইনের ওয়েল্ডিংয়ের মান উন্নত করতে ‘ম্যাগনেটিক পার্টিকল টেস্টিং’ নামে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই পদ্ধতিতে ওয়েল্ডেড জয়েন্টে ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা অনেকটাই সুনিশ্চিত হবে।

  • Link to this news (এই সময়)