• প্রার্থীর সেনাপতি হয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক, দক্ষিণ দিনাজপুরে পদ্মের ক্রাইসিস ম্যানেজার বাপি
    এই সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • রূপক সরকার, বালুরঘাট

    লোকসভা ও বিধানসভায় প্রার্থীর সেনাপতি হয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন। দলের বাইরে হোক বা অন্দরে, মুশকিল আসানও তিনি। রাজ্যের নেতারাও 'ক্রাইসিস ম্যানেজার' হিসেবে মান্যতা দেন তাঁকে। ভোট এলেই তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে 'মেঘনাদ' হয়ে কাজ করেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার। পঞ্চায়েত হোক বা বিধানসভা, কাকে টিকিট দেওয়া উচিত, কেন উচিত, তাঁর মতামত উপেক্ষা করার উপায় নেই। জেলার ছ'টি বিধানসভা হাতের তালুর মতো চেনা। গড়গড় করে বলে দিতে পারেন জেলার ২৬ জন মণ্ডল সভাপতির নাম।

    ১৯৯৮ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে বছর ৪৯ এর 'যুবক'। প্রথম থেকেই পদ্ম শিবিরে। প্রথমে বুথ সভাপতি, তারপর মণ্ডল সভাপতি থেকে জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব। ৯ বছর ধরে তিনি বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অন্য দল তাঁকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বটে, তবে পারেনি। বাড়ি বালুরঘাট ব্লকের গোপালবাটি গ্রাম পঞ্চায়তের মুনইলে। পেশায় কৃষক। বাড়িতে রয়েছে ধান ভাঙানোর মিল। ২০১৯ ও ২০২৪-এর লোকসভায় সুকান্ত মজুমদার, ২০২১-এ বালুরঘাট বিধানসভায় অশোক লাহিড়ীর জয়ের পিছনে তাঁর অবদান স্বীকার করেন দুই নেতাই।

    ২০১৯-এ প্রথমবার বালুরঘাট লোকসভা আসনে জয়ী হন সুকান্ত। সেই সময়ে তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বাপি। সেবারই প্রথম বালুরঘাটে বিজেপি জয়লাভ করে। এরপর ২০২১-এ বালুরঘাট বিধানসভায় দাঁড়ান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোককুমার লাহিড়ী। তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব সামলান তিনি। সেবারও বালুরঘাটে বিজেপি জয়লাভ করে। এরপর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সুকান্ত-র ভোট গণনা এজেন্ট হন বাপি। বিজেপি জয়লাভ করে। জয়ের হ্যাটট্রিক করা বাপির উপরে এ বার তাই বালুরঘাটের প্রার্থী বিদ্যুৎকুমার রায়কে জেতানোর দায়িত্ব দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। যদিও সেনাপতি-টেনাপতি শব্দকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, 'দল যখন যে দায়িত্ব দেয় সেটাকে পালন করার চেষ্টা করি। এর বাইরে আমি কেউ না।'

  • Link to this news (এই সময়)