আশিস নন্দী, গাইঘাটা
যাঁর নামেরই অর্থ বিজয়ী, তিনি কি কখনও হার মানতে পারেন?
তাই শত বাধা উজিয়েই ফুল ফোটাতে মরিয়া তিনি। তবে, জোড়াফুল। তিনি গোবরডাঙার তৃণমূলকর্মী অঞ্জয় রায়।
দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে অন্য কর্মীরা বাইক কিংবা গাড়িতে করে প্রচারে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু অঞ্জয়ের বাহন সাইকেল!
মঙ্গলবার গাইঘাটার তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাসের প্রচারে এক পায়ে সাইকেল চালিয়েই প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন তিনি। দলের প্রতি এমন নিষ্ঠা, ভালোবাসা দেখে তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রার্থী ও দলের কর্মীরাও।
গোবরডাঙা পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি অঞ্জয়ের। বিজ্ঞাপনের জন্য দেওয়াল লেখা তাঁর পেশা। ভোটের সময়ে অতিরিক্ত কিছু উপার্জনের জন্য তিনি রাজনৈতিক দেওয়ালও লেখেন। আগে কংগ্রেসের হয়ে দেওয়াল লিখতেন। ১৯৯৮-এ তৃণমূল গঠিত হওয়ার পরে তিনিও সেই দলেই নাম লেখান। নিজের কাজ সামলেও নির্বাচনের সময়ে দলের হয়ে পোস্টার সাঁটাতেন। দেওয়াল লিখতেন। নিজের ওয়ার্ডের যুব সভাপতিও ছিলেন।
কিন্তু ২০১৭-এর ২৭ জানুয়ারি অঞ্জয়ের জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। তিনি মোটরবাবাইক চালাচ্ছিলেন। আচমকা বাইকের সামনে কুকুর চলে আসায় দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পা বাদ যায়। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর ইচ্ছেশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দলের প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসার টানে প্রতি নির্বাচনেই তিনি এক পায়েই সাইকেল চালিয়ে প্রচার করেন।
গোবরডাঙা গাইঘাটা বিধানসভার অধীনে। এ দিন গাড়িতে প্রচারে বেরিয়েছিলেন নরোত্তম। বাইক ও গাড়ি নিয়ে তৃণমূলের অন্য নেতা-কর্মীরা তাঁর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। অঞ্জয় বেছে নিয়েছিলেন তাঁর নিজস্ব বাহন। এক পায়ে প্যাডেলে চাপ দিয়েই তিনি প্রচার চালিয়েছেন একেবারে শেষ পর্যন্ত। বিষয়টি নজরে আসতেই নরোত্তম গাড়ি থেকে নেমে নিজের গলার মালা পরিয়ে দেন অঞ্জয়কে।
অঞ্জয়ের কথায়, 'আমি অনেক দিন ধরেই তৃণমূলের দেওয়াল লিখি। দলকে ভালোবাসি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি। তবে এ দিনের প্রচারে প্রার্থী যে ভাবে আমাকে সম্মান জানালেন, আমি অভিভূত।' নরোত্তম বলছেন, 'অঞ্জয়ের মতো কর্মীরাই তো আমাদের দলের অন্যতম বড় সম্পদ।'