• ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচনে ভরাডুবি বিজেপির, ২৮টির মধ্যে ২৪ আসনেই জয় তিপ্রামথার
    বর্তমান | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: ত্রিপুরায় সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করেও পাহাড় দখলে ব্যর্থ বিজেপি। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনে ভরাডুবি হল পদ্মশিবিরের। ২৮ আসনের এই স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৪ আসনে জয়ী হয় তিপ্রামথা। বিজেপির ঝুলিতে এসেছে মাত্র চারটি আসন। সেই চার আসনেও খুব সহজে জয় আসেনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সামান্য ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ভোটে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনে জয় পায়নি।

    এবারের নির্বাচনে ত্রিপুরায় জোটসঙ্গী তিপ্রামথার সঙ্গে জোট করে এডিসি নির্বাচনে জোট করে লড়তে চেয়েছিল শাসক বিজেপি। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আর জোট না গড়ার সুফল পেল প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মার দল তিপ্রামথা। এদিন নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট, শুধু জনজাতি অংশের সমর্থনই নয়, বেশ কিছু এলাকায় হিন্দু বাঙালি ও বাঙালি মুসলিমদেরও সমর্থন পেয়েছে তিপ্রামথা। আসনের হিসাবেই স্পষ্ট, এডিসি এলাকায় তিপ্রামথার প্রতি জনসমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি এখনও পাহাড়ে সংগঠন গড়ে তুলতে ব্যর্থ। অধিকাংশ আসনে তিপ্রামথার বড়ো ব্যবধানে জয় মূলত দলের মজবুত সংগঠন ও দৃঢ় জনভিত্তির প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বিজেপির এই শোচনীয় পরাজয়ের পরেই আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলার প্রসঙ্গ। বিধানসভা নির্বাচনের বহু আগে থেকেই দলীর প্রচারের জন্য ত্রিপুরা থেকে একঝাঁক পদ্মশিবিরের নেতা-মন্ত্রীদের বঙ্গে আনা হয়েছে। তাঁরা যে ত্রিপুরা মডেলের বুলি আওড়াচ্ছেন, সেই ত্রিপুরাতেই এডিসি নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তিপ্রামথার কর্মী-সমর্থকরা কার্যত উৎসবে মেতে ওঠেন। বিজয় মিছিল, আবির খেলা এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর মধ্যে দিয়ে জয়ের উচ্ছ্বাস উদযাপন করেন তারা। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে গত এডিসি নির্বাচনে প্রথমবার লড়াই করে জয়ী হয়েছিল তিপ্রামথা। সেবার ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছিল নবগঠিত তিপ্রামথা দল। বিজেপি জয়লাভ করেছিল ন’টি আসনে। এদিন ফল প্রকাশের পর তিপ্রামথা সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ বলেন, ‘এবারের নির্বাচন মোটেই সহজ ছিল না। নানা দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। প্রশাসনের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে। তিপ্রামথা দলকেও ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও তিপ্রাসাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জোরেই দল ফের পাহাড় দখল করতে সক্ষম হয়েছে।’ এদিকে, ফলাফলের পর মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, এই ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসাবে দেখে ভবিষ্যতে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দলীয় কর্মীদের সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    ভোটে শোচনীয় হারের পরও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘তিপ্রামথা গত পাঁচ বছরে কোনো কাজ না করেও শুধু আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটে জয়ী হয়েছে। আর তার রাস্তা করে দিয়েছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।’ অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানান, আমরা জোটসঙ্গী টিপিপিকে নিয়ে ২৮টি আসনেই লড়াই করেছিলাম। প্রত্যাশিতভাবে আদিবাসী ভোট তিপ্রামথার পক্ষে গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)